মালির আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম এক সংকটময় সময় অতিবাহিত হচ্ছে। রাজধানী বামাকোর প্রাণকেন্দ্রে ‘জামাত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন’ (JNIM) এক ব্যাপক ও সুসংগঠিত হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সামরিক ফ্রন্টগুলোতে আজওয়াদ বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণের মুখে সরকারি বাহিনীর প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
রণক্ষেত্র বামাকো: প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের আশেপাশে তীব্র লড়াই
এক নজিরবিহীন অভিযানে মালির রাজধানী বামাকোর কেন্দ্রস্থলে ঢুকে পড়েছে ‘জামাত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন’-এর যোদ্ধারা। এরই মধ্যে বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সবশেষ খবর অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের আশেপাশে এখন প্রচণ্ড লড়াই চলছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি চারপাশ থেকে প্রাসাদটি ঘিরে ফেলেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

পাশাপাশি, মালির সামরিক শক্তির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাতি শহরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাসভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, মালির সেনাপ্রধান নিহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হামলাকারীদের হাতে বন্দি হয়েছেন বলেও সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।
উত্তর ও পূর্বাঞ্চল: কিদাল ও গাওয়ের পতন
রাজধানী বামাকো যখন নিজেকে বাঁচাতে লড়াই , ঠিক তখনই উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের জোট বড় ধরনের কৌশলগত জয় পেয়েছে। আজওয়াদ বিদ্রোহীরা কিদাল শহর পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে। এমনকি শহরের গভর্নরের কার্যালয়ের ভেতরেও তাদের দেখা গেছে, যার অর্থ হলো—সুদূর উত্তরের এই এলাকায় সরকারি প্রশাসনের আর কোনো অস্তিত্ব নেই।
একই সময়ে আজওয়াদ ও জেএনআইএম (JNIM)-এর যোদ্ধারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে গাও শহরে ঢুকে পড়েছে। এর ফলে মালির উত্তর ও পূর্বাঞ্চল এখন পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল।
সামরিক বিপর্যয়: ব্যাপক হতাহত ও বন্দি
যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভিডিও ফুটেজে মালি সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। বহু সেনার প্রাণহানি এবং ডজন ডজন সৈন্যের বন্দি হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। সরকারি বাহিনীর মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে এবং অনেক জায়গায় তারা এলোপাতাড়িভাবে পিছু হটছে।

মালির বর্তমান সামরিক জান্তা এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। একদিকে রাজধানীর পতন আর অন্যদিকে উত্তরের কৌশলগত শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারানো—সব মিলিয়ে দেশটি এখন খাদের কিনারায়। সেনাপ্রধানের মৃত্যু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বন্দি হওয়ার খবর যদি সত্য হয়, তবে মালির গন্তব্য এখন ঘোর অনিশ্চিত। এটি আর কেবল সাধারণ কোনো সামরিক অভ্যুত্থান নয়, বরং পুরো শাসকগোষ্ঠীর পতন ও বিদ্রোহীদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা চলে যাওয়ার এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ।











