তুরস্কের ব্যাংকিং খাতে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করতে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি ইসলামি ব্যাংক একীভূত হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রজব তাইয়েব এরদোয়ান। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এই নতুন উদ্যোগের কথা জানান।
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বিশ্ব ইসলামি অর্থনীতি সম্মেলনে দেয়া ভাষণে এরদোগান বলেন, এই তিন ব্যাংকের একত্রীকরণ খাতটিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে। তিনি আরও জানান, চতুর্থ আরেকটি ইসলামি ব্যাংক প্রথমবারের মতো জনসাধারণের জন্য আইপিও (Initial Public Offering) বা প্রাথমিক শেয়ার ছাড়তে যাচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, শরিয়াহসম্মত অংশীদারিত্বমূলক ইসলামি ব্যাংকগুলো চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কের মোট বাণিজ্যিক ঋণের প্রায় ৭.৪ শতাংশ সরবরাহ করেছে। ২০১৬ সালের তুলনায় এ হার দ্বিগুণেরও বেশি।
তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ইসলামী ব্যাংকগুলোর সম্পদ এখন দেশের মোট ব্যাংকিং সম্পদের ৯.৫ শতাংশ, যেখানে ২০১৬ সালে এ হার ছিল মাত্র ৪.৯ শতাংশ।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ এর বরাতে জানা যায়, সম্মেলনে অংশ নেওয়া অতিথিদের উদ্দেশ্যে এরদোয়ান বলেন, ‘অংশীদারিত্বমূলক অর্থায়ন কেবল মুসলিমদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্যই অত্যন্ত নিরাপদ এবং অধিকতর ন্যায়সংগত একটি অর্থনৈতিক মডেল।’
তিনি জানান, জিরাআত কাতিলিম’ (Ziraat Katılım), ওয়াকফ কাতিলিম’ (Vakıf Katılım) এবং ‘হাল্ক কাতিলিম’ (Halk Katılım)–এই তিনটি ব্যাংককে একীভূত করা হলে তাদের মধ্যে সমন্বিত সক্ষমতা তৈরি হবে এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটবে।
এরদোগান আরও বলেন, চতুর্থ আরেকটি ইসলামি ব্যাংক এমলাক কাতিলিম (Emlak Katılım)-এর শেয়ার সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যাতে নাগরিকরাও দেশের উন্নয়নযাত্রার অংশীদার হতে পারেন।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইস্তাম্বুল স্টক এক্সচেঞ্জে অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থায়নের আওতাধীন কোম্পানিগুলোর বাজার মূল্য মোট বাজার মূল্যের ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
ভাষণে বিশ্বের বর্তমান ক্রমবর্ধমান ঋণ সংকটের প্রতি ইঙ্গিত করে এরদোগান বলেন, এই পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎকে এক বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
তিনি বলেন, `ন্যায়বিচার, নৈতিকতা, উৎপাদনশীলতা এবং সম্পদের সুষম বণ্টনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর না হলে আর্থিক সংকট প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, `যত দ্রুত আমরা ইসলামি অর্থনীতির মূলনীতিগুলোকে আঁকড়ে ধরব, তত দ্রুতই আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’
সুদভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে এরদোয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, `যেখানে সুদ আছে, সেখানে কোনো বরকত (কল্যাণ) থাকতে পারে না।’
সূত্র: আল জাজিরা + ব্লুমবার্গ













