বার্সেলোনায় ইউরোপের প্রথম ফিলিস্তিনকেন্দ্রিক গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু

ইউরোপের প্রথম ফিলিস্তিন কেন্দ্রিক গ্রন্থাগার চালুর খবরটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন নানা দেশের মানুষ এখানে আসছেন এবং ফিলিস্তিনি সাহিত্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
ছবি : আল জাজিরা
ছবি : আল জাজিরা

স্পেনের বার্সেলোনা শহরের প্রাণকেন্দ্র গ্রাসিয়া এলাকায় ফিনিস্ত্রেস ফাউন্ডেশন ইউরোপের প্রথম ফিলিস্তিন–বিষয়ক বিশেষায়িত গ্রন্থাগার চালু করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল ফিলিস্তিন ইস্যু সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সমৃদ্ধ ফিলিস্তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে সগৌরবে তুলে ধরা।

প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ফিলিস্তিনি লেখক মুহাম্মদ বায়তারি আল জাজিরাকে জানান, তাদের এই উদ্যোগের নাম ‘ফিনিস্ত্রেস ফিলিস্তিন’। গ্রন্থাগারটিতে বিভিন্ন ভাষায় রচিত হাজার হাজার ফিলিস্তিন–বিষয়ক বই রয়েছে। ফিকশন, কবিতা, নাটক থেকে শুরু করে ইতিহাস, ফিলিস্তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রায় সব শাখার বইই এখানে স্থান পেয়েছে।

বায়তারি বলেন, এই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পেছনে একটি বেদনাদায়ক ঘটনা রয়েছে। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন,

‘স্পেনে আমাদের একটি লাইব্রেরিতে ফিলিস্তিন সংক্রান্ত বইয়ের জন্য আলাদা তাক ছিল। একদিন একজন ব্যক্তি সেখানে এসে ‘ফিলিস্তিন’ লেখা বইগুলোর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে কফি ঢেলে দেয়। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, শুধু ফিলিস্তিনকে ঘিরেই একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করব।’

ইউরোপে ফিলিস্তিন সংকটকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থাগারের ভূমিকা কী হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাহিত্য কেবল কোনো জাতির লড়াই-সংগ্রামের কথাই বলে না, বরং সেই জাতির সুদীর্ঘ ইতিহাস ও নিজস্ব পরিচয়কেও রক্ষা করে। কারণ, এমন বহু ফিলিস্তিনি সাহিত্য রয়েছে, যা ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শুরুরও বহু আগে রচিত।

স্পেনে আমাদের একটি লাইব্রেরিতে ফিলিস্তিন সংক্রান্ত বইয়ের জন্য আলাদা তাক ছিল। একদিন একজন ব্যক্তি সেখানে এসে ‘ফিলিস্তিন’ লেখা বইগুলোর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে কফি ঢেলে দেয়। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, শুধু ফিলিস্তিনকে ঘিরেই একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করব।

তিনি আরও বলেন, ফাউন্ডেশনের মূল কাজ হলো ফিলিস্তিনের ভেতর ও বাইরে ছড়িয়ে থাকা মানুষের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতালব্ধ সাহিত্যকে সবার সামনে নিয়ে আসা এবং বিশ্ববাসীর কাছে ফিলিস্তিনের নিজস্ব বয়ান তুলে ধরা।

উদ্বোধনের পর থেকেই শিক্ষাবিদ, স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী এবং বার্সেলোনায় আগত পর্যটকদের কাছ থেকে গ্রন্থাগারটি দারুণ সাড়া পেয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা ও পরিবেশকরাও এই উদ্যোগে দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এক নতুন কেন্দ্র

বায়তারি জানান, ইউরোপের প্রথম ফিলিস্তিন কেন্দ্রিক গ্রন্থাগার চালুর খবরটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন নানা দেশের মানুষ এখানে আসছেন এবং ফিলিস্তিনি সাহিত্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

তিনি এই লাইব্রেরিটিকে বার্সেলোনায় ফিলিস্তিনের একটি কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করেন। অনেকেই ফিলিস্তিন সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না, তারা এখানে এসে তথ্য জানতে চান। বায়তারি বলেন, ‘এখানে আমাদের কাজই হলো মানুষকে তথ্য দেওয়া, বইয়ের পরামর্শ দেওয়া এবং আলোচনার মাধ্যমে তাদের কাছে ফিলিস্তিনের সংস্কৃতি ও সংকটকে তুলে ধরা।’

প্রতিবেদক আবদুল আজিজ সাবাহর কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বায়তারি আরও বলেন, এই গ্রন্থাগার ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি ইস্যুর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি ফিলিস্তিনি লেখক, লেখিকা, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের জন্যও একটি সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে। তাদের অন্যতম প্রধান স্বপ্ন হলো, এই গ্রন্থাগারকে এমন একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, যেখান থেকে নিয়মিত সাহিত্যচর্চা, শিক্ষা ও জনসচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আর এর মাধ্যমেই বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালীভাবে ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকার ও সুদীর্ঘ ইতিহাসকে তুলে ধরা সম্ভব হবে। 

সূত্র: আল জাজিরা

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন