সমুদ্রপথে পাড়ি জমাতে গিয়ে গত ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, এটিই এখন পর্যন্ত সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।
সংস্থাটির তথ্যমতে, গত বছর ৬,৫০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। বিশ্বের প্রধান সমুদ্র অভিবাসন রুটগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সমুদ্রযাত্রার সিংহভাগই শুরু হয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে। সেখানে শিক্ষা, জীবিকা ও প্রয়োজনীয় সেবার সীমিত সুযোগের কারণে রোহিঙ্গারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। পাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে তারা উপচে পড়া ভিড় আর জরাজীর্ণ নৌকায় করে এই বিপজ্জনক যাত্রা বেছে নিচ্ছেন।
জাতিসংঘের এক মুখপাত্র বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য গত বছরটি ছিল সমুদ্রপথের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও শোকাবহ।
অন্য এক কর্মকর্তা জানান, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত, রাষ্ট্রহীনতা এবং নিরাপত্তার অভাবই মূলত মানুষকে এই মরণযাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ যুদ্ধ আর নাগরিক অধিকার না থাকায় অনেক রোহিঙ্গা এখন প্রায় দিশেহারা ও আশাহীন।’
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রপথে যাত্রা করা মোট সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল নারী ও শিশু।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ২০২৬ সালেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইতোমধ্যেই ২,৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রযাত্রার চেষ্টা করেছেন।
আন্দামান সাগরে বড় ধরনের ট্র্যাজেডি: চলতি এপ্রিলের শুরুতে টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া প্রায় ২৮০ জন যাত্রীসহ একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মাত্র ৯ জন বেঁচে ফিরলেও বাকি ২৫০ জন এখনো নিখোঁজ। উদ্ধারকৃতদের বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এই মানবিক বিপর্যয় রুখতে জাতিসংঘ বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি দেশগুলোকে মানবপাচার রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া, নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা এবং এই সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের তাগিদ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন গণমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়।
সূত্র: আরকে











