বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারে কমেছে জ্বালানির দাম

20240715060019_8D8A4306-min

বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং চড়া দাম লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তখন আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারে দেখা গেছে এর ঠিক বিপরীত চিত্র।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও গত কয়েক দিনে আফগানিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ৩ আফগানি পর্যন্ত দাম কমেছে।

বর্তমানে আফগানিস্তানের বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল ও পেট্রোল ৬৩ আফগানি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং তরলীকৃত গ্যাসের (এলপিজি) দাম প্রতি কেজি ৫৭ আফগানিতে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং সেই তুলনায় চাহিদা কিছুটা কম থাকায় সাময়িকভাবে এই দরপতন হয়েছে। তবে আব্দুল নাসির রেশতিয়ার মতো বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ‘দরপতন’ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তাই জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে এখনই শক্তিশালী ‘কৌশলগত মজুত’ গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আফগান সরকার বালখ প্রদেশের হায়রাতান বন্দরে ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি তেল মজুত কেন্দ্র পুনরায় সচল করেছে। রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানির মুখপাত্র মোহাম্মদ নবী বাহার জানান, ইসলামিক আমিরাত প্রতিষ্ঠার পর অব্যবহৃত ও অকেজো পড়ে থাকা অবকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে এই রিজার্ভটি চালু করা হয়েছে, যা বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখছে।

এমন এক সময়ে আফগানিস্তানে দাম কমার খবর এলো যখন হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের বাজার বৈশ্বিক এই উত্থান-পতনের ঝুঁকিতে থাকলেও, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ মজুত ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সূত্র : তোলো নিউজ