আল জাজিরার বিশ্লেষণ

প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে রাশিয়ার সাথে আফগানিস্তানের কী কী আলোচনা হলো

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাশিয়াকে তাদের দেশের জন্য উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন।
এআই নির্মিত ছবি
এআই নির্মিত ছবি
A- A+

গত ২৬-২৮ মে মস্কোয় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফোরামে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদের অংশগ্রহণ রাশিয়া ও আফগান সরকারের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

তালেবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলের মস্কো সফর এবং রুশ নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান সের্গেই শোইগুর সাথে সামরিক-কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর কেবল কোনো প্রতীকী ঘটনা নয়। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একদিকে ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের ওপর চাপ তৈরি, অন্যদিকে আফগানিস্তানে থাকা রুশ সমরাস্ত্রের আধুনিকায়নের মাধ্যমে কাবুলের এক পেশাদার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার এই উদ্যোগ আগামী দিনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এটা ছিল আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। এমন এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হলো, যখন গত কয়েক মাস ধরে মস্কো ও কাবুলের মধ্যে যোগাযোগ ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়েছে। আঞ্চলিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন বিভিন্ন শক্তিকে আফগান পরিস্থিতিকে নিরাপত্তা ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে নতুনভাবে পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে।

সফরকালে আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুর সাথে বৈঠক করেন। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে প্রথাগত কূটনৈতিক গণ্ডির বাইরে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। 

সামরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাশিয়াকে তাদের দেশের জন্য উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন। সূত্র জানায়, এ বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আগেও আলোচনা হয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক মস্কো সফরে সেই চুক্তি বাস্তবায়নের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চুক্তিতে স্থল সামরিক সরবরাহ এবং আফগান সেনাবাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শোইগু ও ইয়াকুব মুজাহিদের উপস্থিতিতে মস্কোয় এই চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। এটিকে দু’দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন বলে অভিহিত করা হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আফগান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে আসার পর এই প্রথম কোনো আঞ্চলিক রাষ্ট্রের সঙ্গে ইয়াকুব মুজাহিদ সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মস্কো আফগানিস্তানকে মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিস্তার এবং এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো নিরাপত্তা সংকটের আঁচ যেন মধ্য এশিয়ায় রাশিয়ার মিত্র প্রজাতন্ত্রগুলোতে না ছড়ায়, তা নিয়ে মস্কো বরাবরই উদ্বিগ্ন। তাই কাবুলের সঙ্গে সরাসরি নিরাপত্তা চ্যানেল গড়ে তোলার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছে মস্কো। তারা আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সমীকরণে এমন এক পক্ষ হিসেবে দেখছে, যাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আজিজ জালাল মনে করেন, মস্কো ও কাবুলের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা মধ্য এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতিতে একটি বৃহত্তর বাস্তববাদী পরিবর্তনের প্রতিফলন। তাঁর মতে, এই অঞ্চলের দেশগুলো এখন আফগানিস্তানকে হিসাব-নিকাশের বাইরে রাখার পরিবর্তে, ধীরে ধীরে তাদের নিরাপত্তা সমঝোতার মূল ধারায় শামিল করার দিকে ঝুঁকছে।

আল-জাজিরা কে তিনি বলেন, এই পরিবর্তন কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উপলব্ধির প্রতিফলন, যেখানে বোঝা যাচ্ছে যে মধ্য এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি থেকে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফোরাম ও বিভিন্ন বৈশ্বিক আয়োজনে কাবুলের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, আফগানিস্তান নতুন করে আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে চায়। এর মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃসীমান্ত হুমকি মোকাবিলা এবং যৌথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।

এই সফর শুধু দু’দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ই নয়, বরং আফগানিস্তানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্থাপত্যের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার এক সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টারও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়া আগামী দিনে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোকে কাবুলের প্রতি আরও নমনীয় ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

আজিজ জালালের মতে, এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার গৃহীত নীতি আঞ্চলিক ভারসাম্য পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে। কারণ, রাশিয়া আফগান বাস্তবতাকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ইস্যু হিসেবে না দেখে আঞ্চলিক নিরাপত্তার এক সক্রিয় উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি মনে করেন, যদি এই নীতি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়, তবে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতে পারে এবং বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সহযোগিতামূলক ব্যবস্থার পথ উন্মুক্ত করতে সক্ষম হবে।

বর্তমানে আফগান সরকারের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। গত কয়েক বছরে উভয় দেশের মধ্যে একাধিক সরকারি প্রতিনিধিদলের সফর হয়েছে। একই সঙ্গে মস্কো কাবুলে তার কূটনৈতিক উপস্থিতি ও যোগাযোগের পথও অব্যাহত রেখেছে।

২০২১ সালের পর যে কয়েকটি দেশ কাবুলে তাদের দূতাবাস বন্ধ করেনি, রাশিয়া তাদের অন্যতম। এমনকি ২০২২ সালে আফগান সরকারের সাথে রাশিয়ার একটি অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় আফগানিস্তানের প্রয়োজনীয় তেল, গ্যাস ও গমের একটি অংশ সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। 

তা সত্ত্বেও, আফগানিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি নিয়ে মস্কো এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলো অনবরত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। অন্যদিকে আফগান সরকারের দাবি, তারা এসব নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী মুহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ ফোরামের এক ফাঁকে বলেন, ‘আমরা বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্র সৃষ্টিকারী নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি।’ 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আফগান সরকার কখনোই দেশের ভূখণ্ড অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ দেবে না।’ তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব আশ্বাস এখনও আঞ্চলিক উদ্বেগ পুরোপুরি দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়।

ফোরাম চলাকালীন সের্গেই শোইগু ঘোষণা করেন যে, মস্কো আফগান সরকারের সাথে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব’ গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি আফগান সংকট মোকাবিলায় এক বৃহত্তর আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে তিনি এই অঞ্চলের দেশগুলোকে কাবুলের সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এর আগে ২০২৪ সালে রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তির বরাতে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে তালেবানের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশটি এখন পুরোপুরি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সত্যিকারের প্রভাব বিস্তার করতে হলে কাবুলের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা অপরিহার্য।

অন্যদিকে, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ আফগান সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি প্রদর্শনের এক মূল্যবান সুযোগ ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অসংখ্য প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে কাবুল এ বার্তা দিতে চেয়েছে যে, তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা-সংক্রান্ত আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে আগ্রহী। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতাও কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক গাউসুদ্দিন আমিরীর মতে, এই ফোরামে আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অংশগ্রহণ কাবুলের পররাষ্ট্রনীতিতে চলমান সুস্পষ্ট পরিবর্তনের প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, আফগান সরকার এখন কেবল অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে বাস্তববাদী সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

আল জাজিরা কে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তালেবান নিজেকে এমন একটি নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে, যার সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি মোকাবিলার মতো বিষয়গুলোতে কাজ করা সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং একে দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় রূপান্তর করতে আরও বড় ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের প্রয়োজন।

তবে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, এই ঘনিষ্ঠতা স্বল্পমেয়াদে আফগান সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের পথ প্রশস্ত করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাদের মতে, পূর্ণ রাজনৈতিক স্বীকৃতির চেয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশকেই মস্কো তাদের বাস্তবসম্মত নীতিতে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।

শর্তসাপেক্ষ ঘনিষ্ঠতা

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ মাসকানিয়ার মনে করেন, দুই পক্ষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই ঘনিষ্ঠতা আসলে তাদের কৌশলগত হিসাব-নিকাশের পুনর্বিন্যাসের প্রতিফলন। আফগান সরকার যেখানে পরোক্ষ স্বীকৃতি ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের যুক্ত করতে চাইছে, সেখানে মস্কো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার তাগিদে এক বাস্তবসম্মত নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে আফগান বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সম্পর্ক কাবুলকে বৃহত্তর কূটনৈতিক পরিসর দিতে পারে বটে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জটিলতা এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর ভিন্নমুখী অবস্থানের কারণে এর সম্ভাবনা এখনও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ।

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সিবগাতুল্লাহ আল-কুজি মনে করেন, মস্কো ও কাবুলের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্ক মধ্য এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিসরে পারস্পরিক সম্পর্কের ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এখন আর একে শুধু রাজনৈতিক স্বীকৃতির মাপকাঠিতে মাপা হচ্ছে না, বরং এটি গড়ে উঠছে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে দুই পক্ষ কতটা সফলভাবে বর্তমান যোগাযোগকে টেকসই, সুস্পষ্ট এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার কাঠামোয় রূপান্তর করতে পারে তার ওপর।

উল্লেখ্য, মস্কোয় অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফোরামে ১৮০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল অংশ নেয়, যার মধ্যে মধ্য এশিয়ার দেশসমূহ (কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান), চীন, ইরান, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশসমূহ এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বার্ষিক ফোরামটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এখানে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমন, মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আল জাজিরা আরবি থেকে ঈষৎ পরিবর্তনসহ অনূদিত 

আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন