সিরিয়ায় জনতার ধাওয়া খেয়ে সামরিক স্মার্টফোন ফেলে পালাল ইসরায়েলি সৈন্য, ঘটনায় তোলপাড় তেল আবিব 

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সিরিয়ার দারআ অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের তাড়া খেয়ে সামরিক স্মার্টফোন ফেলে পালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। দারআ অঞ্চলের পশ্চিমাংশের ‘তেল কুদনা’ ও ‘তেল আল-মুগর’ এলাকায় অনুপ্রবেশের পর জনরোষের মুখে পড়ে পিছু হটার সময় এই ঘটনা ঘটে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সেই ফোনের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তেল আবিবের সামরিক সদর দপ্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

যেভাবে পিছু হটলো ইসরায়েলি বাহিনী

গত রোববার সাঁজোয়া যান ও স্নাইপারসহ দারআ অঞ্চলের সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অনুপ্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী। তেল আবিবের দাবি ছিল, এটি তাদের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এর রুটিন অপারেশন। কিন্তু স্থানীয় সিরীয় জনগণ কেবল মাঠের পাথর ছুঁড়েই ইসরায়েলি সেনাদের ঘিরে ধরে।

ইউটিউব ভিডিও দেখুন

একজন ইসরায়েলি রিজার্ভ সৈন্যের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, জনরোষের মুখে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে তড়িঘড়ি করে পিছু হটে ইসরায়েলি ইউনিট। আর এই তাড়াহুড়োর মাঝেই এক সেনা তার সামরিক হ্যান্ডসেটটি ফেলে যায়। সিরীয় নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই পাথরের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এই মাটি কোনো আগ্রাসনকারীকে নিরাপদ পারাপার হতে দেবে না।’ 

কী এই ‘ওলার’ ফোন?

উদ্ধার হওয়া এই ডিভাইসটি কোনো সাধারণ মোবাইল নয়। ২০২২ সালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হওয়া ‘ওলার’ (Olar) মূলত একটি উচ্চপ্রযুক্তির ডিজিটাল রণকৌশল ডিভাইস। ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স এবং সাইবার ডিফেন্স ডিরেক্টরেটের যৌথ উদ্যোগে এই ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে।

নেটওয়ার্কহীনতা: সাইবার হ্যাকিং কিংবা শত্রুপক্ষের ট্র্যাকিং এড়াতে এই ফোনটিকে প্রচলিত ইন্টারনেট এবং সেলুলার নেটওয়ার্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।

ডিজিটাল মানচিত্র: এটি মূলত কাগজের মানচিত্রের অবসান ঘটিয়েছে। এর ভেতরে থাকা নিখুঁত ডিজিটাল ম্যাপ শত্রুর ভূখণ্ডের ভেতরে নেভিগেশন সুবিধা দেয়।

ট্যাকটিক্যাল কমান্ড: মাঠপর্যায়ের কমান্ডাররা এই ডিভাইসের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে সেনা মোতায়েন, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত এবং যুদ্ধের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

ইসরায়েলি কমান্ড দূর নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোনটি নিষ্ক্রিয় করার দাবি করলেও তথ্য ফাঁসের আতঙ্ক কাটছে না। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র সংক্ষেপে জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা

এই অনুপ্রবেশের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ১৯৭৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ সিরিয়ায় ক্রমাগত সামরিক অভিযান, বিমান হামলা, কৃষি জমি ধ্বংস এবং বেসামরিক নাগরিকদের বন্দি করে আসছে ইসরায়েল। দামেস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অনুপ্রবেশ এবং কামানের গোলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন