গত ২ মার্চ ভোরে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি এলাকায় হরিয়ানার পালওয়াল জেলার বাসিন্দা আমির খান (২৮) নামে এক ফলবাহী পিকআপ ভ্যান চালককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
কী ঘটেছিল?
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আমির ভোরে দিল্লির আজাদপুর মন্ডিতে ফল পৌঁছে দেওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন। পথিমধ্যে একটি বোলেরো গাড়ি ও আরও কয়েকটি যানবাহন তার পথ আটকে দাঁড়ায়। আমিরের কাকা জুবায়েরের দাবি অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে আমিরের গাড়িতে ধাক্কা মারে এবং পরবর্তীতে তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি মাথায় গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেইতার মৃত্যু হয়।

তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
রাজস্থানের চোপানকি থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (খুন) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। -অভিযোগপত্রে সোনু ও দেবেন্দ্রসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১০-১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। -ময়নাতদন্তে আমিরের মাথা থেকে গুলির অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের অবস্থা
নিহত আমির ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। ঈদুল ফিতরের পর তার বোনের বিয়ের কথা ছিল, যার সমস্ত খরচ আমিরের কাঁধেই ছিল।
উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাটি রাজস্থান ও হরিয়ানা সীমান্তে পুনরায় তথাকথিত ‘গো-রক্ষা’র নামে চলা সহিংসতার স্মৃতি উসকে দিয়েছে। যদিও আমির গবাদি পশু নয়, বরং ফল পরিবহন করছিলেন, তবুও তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে পরিবারের দাবি। জুনায়েদ-নাসির বা পেহলু খানের মতো পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে আমিরের পরিবার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











