হুথিদের সাথে আশ শাবাবের সামরিক সহায়তা নিয়ে সামনে এলো নতুন তথ্য

আশ শাবাবের ঘনিষ্ঠ এক সোমালি সদস্য ইয়েমেনে প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৪০০ যোদ্ধা কে সমন্বয় করেছে।
ছবি : এএফপি
ছবি : এএফপি

ইয়েমেনের হুথি ও সোমালিয়ার প্রতিরোধ সংগঠন ‘আশ শাবাব’-এর মধ্যে সম্পর্ক আর বিচ্ছিন্ন বা সীমিত পর্যায়ে নেই, জাতিসংঘের কয়েকটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এটি এমন একটি সুসংহত বিষয়, যেখানে অস্ত্র পরিবহন, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। আদন উপসাগরজুড়ে বিস্তৃত এবং স্থিতিশীল চোরাচালান রুটকে ভিত্তি করেই এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ইয়েমেন থেকে আসা বেশ কয়েকটি অস্ত্রের চালান আটক করেছে। এসব চালানে বিস্ফোরক, ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ছিল। এ ঘটনাকে ঘিরে যে নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া গেছে, সেখানে হুথি ও আশ শাবাবের কিছু মধ্যস্থতাকারী ও অস্ত্র-ব্যবসায়ীও গ্রেপ্তার হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশ শাবাবের ঘনিষ্ঠ এক সোমালি সদস্য ইয়েমেনে প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৪০০ যোদ্ধা কে সমন্বয় করেছে। পাশাপাশি কয়েকজন হুথি সামরিক প্রকৌশলী সোমালিয়ায় গিয়ে সরাসরি বিস্ফোরক বানানো, ড্রোন পরিচালনা ও অস্ত্র মেরামতের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

২০২৪ সালে হুথিদের সমুদ্রপথের এক-তৃতীয়াংশ হামলা তাদের নিজস্ব রাডারের আওতার বাইরে হয়েছে। এতে এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে যে, তারা বাইরের কোনো গোয়েন্দা সহায়তা পাচ্ছে। জাতিসংঘের মতে, ওই সহায়তার একটি অংশ সোমালিয়ার ‘আশ শাবাব’ থেকেই আসতে পারে।

হুথিরা খুব কম খরচে হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলে তাদের প্রভাব বাড়াতে পারছে এবং এতে তারা বেশ আর্থিক সুবিধাও পাচ্ছে। পাশাপাশি এতে আশ শাবাবেরও মিলছে বিবিধ অস্ত্র ও প্রযুক্তি সুবধিা। কারণ, এসব অস্ত্র ও প্রযুক্তি স্থানীয় বাজারে সহজলভ্য নয়। 

অবশ্য এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুপক্ষেরই কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, উত্তর সোমালিয়ায় আশ শাবাবের সীমিত উপস্থিতি, ভারী অস্ত্র স্থানান্তরে জটিলতা এবং হুথিদের সম্ভাব্য ইসরায়েলি হুমকির সঙ্গে মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকা। এসব কারণে তারা সামরিক অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য হতে পারে।

তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, হুথিদের সমর্থন কমলেও আশ শাবাবের মূল শক্তি তেমন একটা দুর্বল হবে না, কারণ তারা তাদের মূল অস্ত্রভাণ্ডারের ক্ষেত্রে হুথিদের ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে উভয় পক্ষের জন্য তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা চলমান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।