টানা সাত বছর ধরে চলা ভয়াবহ খরার কারণে গবাদি পশুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে মরক্কোয়। এমন পরিস্থিতিতে কোরবানির ঈদে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ।
বুধবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি। দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আত-তৌফিক বাদশাহর বার্তা পড়ে শোনান। এতে বলা হয়, ‘আমাদের প্রিয় জনগণের প্রতি আহ্বান, এই বছর কোরবানির ঈদের পশু জবাই থেকে বিরত থাকুন।’
খরা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশে গবাদি পশুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে জানান বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘কোরবানি ইসলামে সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল একটি সুন্নত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পশু জবাই করলে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে।’
টানা সাত বছরের খরায় মরক্কোয় গবাদি পশুর সংখ্যা ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। দেশটির কৃষিমন্ত্রী আহমদ আল-বুয়ারি জানান, গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ৫৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হওয়ায় পশুর খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
গত শতকের আশির দশকের পর দেশটি এত দীর্ঘমেয়াদি খরার সম্মুখীন হয়নি। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পশুখাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে গোশতের উৎপাদনও কমেছে। বাজারে গোশতের দাম বেড়ে যাওয়ায় মরক্কোকে বিপুল পরিমাণ গবাদি পশু, বিশেষ করে ভেড়া ও গরু আমদানি করতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি দেশটি অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ লাখ ভেড়া আমদানির চুক্তি করেছে। পাশাপাশি, ২০২৫ সালের বাজেটে গবাদি পশু, ভেড়া, উট ও লাল গোশতের ওপর আমদানি শুল্ক এবং ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে, যাতে বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এর আগেও মরক্কোয় খরার কারণে কোরবানির ঈদে পশু জবাই না করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। প্রয়াত বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান ১৯৬৩, ১৯৮১ ও ১৯৯৬ সালে দেশজুড়ে ভয়াবহ খরার কারণে জনগণকে কোরবানি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা



