গাজায় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা করেছিলেন ইয়াহইয়া সিনওয়ার, বিস্ফোরক তথ্যসহ সামনে এলো তাঁর হাতের লেখা নথি 

ইয়াহইয়া সিনওয়ারের সাথে, গাজার পথ ধরে
ইয়াহইয়া সিনওয়ার। ছবি : আল জাজিরা


ঐতিহাসিক ‘তুফানুল আকসা’ বা ৭ অক্টোবরের অভিযানের পর তেল আবিব পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো চরম পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা করেছিলেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষ নেতা শহিদ ইয়াহইয়া সিনওয়ার। তেল আবিবের একটি গোয়েন্দা তথ্য কেন্দ্রের বরাতে সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথির সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে আনা হয়েছে।

ইসরায়েলি ওই গোয়েন্দা সংস্থাটির দাবি, গাজায় গণহত্যা চালানোর সময় হামাসের কাছ থেকে জব্দ করা কিছু নথিপত্র বিশ্লেষণ করে তারা জানতে পেরেছে, এগুলো স্বয়ং ইয়াহইয়া সিনওয়ারের নিজের হাতে লেখা। এসব নথিতে ৭ অক্টোবরের অভিযানের প্রস্তুতি এবং এর পরবর্তী সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে হামাস নেতৃত্বের পরিকল্পনার চিত্র উঠে এসেছে।

নথির বরাতে দাবি করা হয়েছে, অভিযানের পর দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী যে জল, স্থল ও আকাশপথে গাজায় সর্বাত্মক ও নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে, সে বিষয়ে সিনওয়ার সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন। এমনকি পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক রীতিনীতি তোয়াক্কা না করে পারমাণবিক অস্ত্রের মতো বিধ্বংসী পথ বেছে নিতে পারে—এমন চরম আশঙ্কার কথাও জানানো হয় ওই নথিতে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সীমানা ও সামরিক চৌকিগুলো কীভাবে ভেঙে ফেলা হবে, অবরুদ্ধ গাজাবাসীর ওপর দশকের পর দশক ধরে চলা নিপীড়নের জবাব দিতে কীভাবে প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাশিবির ও বসতিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে—তার বিস্তারিত পরিকল্পনাও এসব নথিতে সাজানো ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

নথির তথ্য অনুযায়ী, দখলদারদের বিরুদ্ধে এই দীর্ঘমেয়াদি অসম লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে হামাস নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসী ছিল। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ গাজার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলোও পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে শামিল হবে বলে আশা করেছিলেন সিনওয়ার। ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড রক্ষা ও মুক্তির এই সংগ্রামকে তিনি একটি অলিখিত ‘জীবন-মরণ’ লড়াই হিসেবেই চিহ্নিত করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন