ইসরায়েলি কারাগারে ঠিক কী ঘটেছিল সুমুদ ফ্লোটিলার সেই জার্মান অ্যাক্টিভিস্টের সঙ্গে? 

জার্মান মানবাধিকারকর্মী আনা লিডটকে
জার্মান মানবাধিকারকর্মী আনা লিডটকে

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েই নিজের ওপর চলা ভয়াবহ নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন জার্মান মানবাধিকারকর্মী আনা লিডটকে। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টায় অংশ নিয়ে সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ বহরের এই যাত্রী। ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার এই অ্যাক্টিভিস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বন্দি করার পর প্রথম থেকেই তাঁর ওপর পরিকল্পিতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।  

কারাগারের সেই দিনগুলোর বর্ণনা দিয়ে আনা লিডটকে বলেন, কারারক্ষীরা জোর করে তাঁর পোশাক খুলে নেয়। এরপর তাঁকে রাখা হয় এমন এক জায়গায়, যা আংশিকভাবে একটি পর্দা দিয়ে ঢাকা ছিল। ফলে সেখান দিয়ে যাতায়াতের সময় পুরুষ ইসরায়েলি সেনারা তাঁর নগ্ন শরীর দেখছিল এবং উপহাস করছিল।

তিনি আরও জানান, তল্লাশির নামে তাঁর ওপর চরম যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে। লিডটকে বলেন, নগ্ন করে তল্লাশি করার সময় ইসরায়েলি নারী রক্ষীরা জোর করে তাঁর কাপড় কেড়ে নেয় এবং শরীর স্পর্শ করতে থাকে। এরপর হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে একজন নারী রক্ষী তাঁর গোপনাঙ্গ ও মলদ্বারে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়। তিনি যন্ত্রণায় চিৎকার করার চেষ্টা করলে তারা মুখ চেপে ধরে। আর পাশে দাঁড়িয়ে পুরুষ সেনারা এই দৃশ্য দেখছিল ও হাসছিল। 

্তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা আন্তর্জাতিক কর্মীদের কণ্ঠরোধ করতেই ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, তারা আমাদের মনোবল পুরোপুরি ভেঙে দিতে ও স্তব্ধ করতে চায়। তবে এই নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবেন না বলে জানিয়েছেন আনা লিডটকে। 

এদিকে এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীর ওপর এমন আচরণে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর এই বন্দি নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন