ড্রাকুলার ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও উসমানীয় মুসলিম সাম্রাজ্য

তৃতীয় ভ্লাড; মূল চিত্রিত ছবি থেকে কপি করে অংকিত যা ব্র্যান ক্যাসেলে সংরক্ষিত আছে
তৃতীয় ভ্লাড; মূল চিত্রিত ছবি থেকে কপি করে অংকিত যা ব্র্যান ক্যাসেলে সংরক্ষিত আছে

১৫শ শতকের রোমানিয়ার ট্রানসিলভ্যানিয়া; যেখানে কালের সাক্ষীরূপে দাঁড়িয়ে আছে ব্রান ক্যাসেল(Bran Castle) সে সময়ের ট্রানসিলভ্যানিয়ার(Transylvania) ওয়ালাকিয়ার(Wallachia) এই ব্র্যান ক্যাসেল ঘিরে রয়েছে এক লোমহর্ষক ঐতিহাসিক তাৎপর্য। স্বভাবতই পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগবে ওয়ালাকিয়া নিয়ে এ বিশেষ আকর্ষণের কারণ কি? ভ্রমণপিপাসু কিংবা ইতিহাস অন্বেষু ব্যক্তিরা হয়তো কমবেশি জানেন, কিন্তু এর সাথে যে মুসলিম সভ্যতার বিশেষ ও গভীর  সম্পর্ক ছিল তা অনেকেরই অজানা।  

ব্র্যান ক্যাসেল(Bran Castle), ট্রানসিলভানিয়া, রোমানিয়া

সে সময় ওয়ালাকিয়া ছিল উসমানীয় মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্গত যা বর্তমানে রোমান ক্যাথলিক রাষ্ট্র রোমানিয়ার শাসনাধীন। উল্লেখ্য, আজ থেকে ৭০০ বছর আগে আনুমানিক ১২৯৯ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান হয় যা পুরো বিশ্বে ধীরে ধীরে অটোম্যান এম্পায়ার(Ottoman Empire) নামে পরিচিত হয়। মুসলিম এ সাম্রাজ্য ছিল তৎকালীন পরাশক্তি(Superpower) যা দ্বারা প্রভাবিত ছিল পূর্ব থেকে পশ্চিমের সমগ্র ভূখন্ড। এ সাম্রাজ্যের উত্থানের কয়েকশ বছর পর এটি উসমানী খিলাফত নামে সুপরিচিত হয়। দীর্ঘ ৬০০ বছর প্রতাপদীপ্ত গৌরবময় শাসনের পর ১৯২৪ সালের ৩রা মার্চ ইহুদীবাদী কামাল আতার্তুক পাশার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ খিলাফতের পতন ঘটে। সে গ্লানিময় ইতিহাস না হয় আরেকদিন জানবো আমরা!

মধ্যযুগে উসমানি সাম্রাজ্যের বিস্তৃত

তো এবার চলুন আমরা ফিরে যাই, ৫০০ বছর পূর্বের সময়ে, ফিরে যাই গৌরবদীপ্ত মুসলিম পরাশক্তির আজ্ঞাবহ সে অঞ্চলে, ফিরে যাই ট্রানসিলভানিয়ার ওয়ালাকিয়ায়, রোমানিয়ার উচ্চকিত নয়নাভিরাম সুউচ্চ কার্পাথিয়ান পর্বতবেষ্টিত সে রহস্যঘেরা ভূমিতে।

ওয়ালাকিয়ার বিস্তির্ণ নয়নাভিরাম ভূখন্ড

বলছি ১৪২৯-১৪৩২ সালের কথা; ওয়ালাকিয়ার তখনকার শাসক ছিলেন রাজা দ্বিতীয় ভ্লাড(Vlad ||)। তিনি ড্রাকুল(Dracul)হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এমন নামকরণ হওয়ার বিশেষ কারণ ছিল। তিনি পোপ এর আদেশকৃত অর্ডার অব ড্রাগন(Order of Dragon) এর উপর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন যা পোপ কর্তৃক হলি রোমান এম্পায়ার এর বিশেষ এজেন্ডা ছিল বলকান অঞ্চল থেকে মুসলিমদেরকে প্রতিহত করা ও মুসলিমদের ইউরোপ জয়ের সমূহ সম্ভাবনা কে নির্মূল করার অভিপ্রায়ে। আর ড্রাগন থেকেই রোমানিয়ান শব্দ ড্রাকুল শব্দের উৎপত্তি। আর এরপর থেকেই তাঁর বংশ ড্রাকুলিস্টে(Draculiste) নাম ধারণ করে। তো যা বলছিলাম, পোপ এর সাথে রাজা দ্বিতীয় ভ্লাড প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড(Crusades: Holy war named by Pope against Muslims) যুদ্ধ পরিচালনা করার কিন্তু মুসলিম পরাশক্তি উসমানীয় সাম্রাজ্যের মূল ভুখন্ড ছিল একদমই ওয়ালাকিয়া রাজ্য সংলগ্ন। মূলত এ কারণেই তৎকালীন বিশ্বের এ মহাশক্তিধর রাজ্য দ্বারা সে ছিল প্রভাবিত। উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মুরাদের(Murad ||) সাথে তার বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক ছিল অধিকন্তু অমুসলিম রাষ্ট্র ও অনুগত রাষ্ট্র হিসেবে বার্ষিক করও প্রদান করতেন। অপরদিকে রাজা ভ্লাড এর পার্শ্ববর্তী দেশ হাংগেরী ছিল তার নিকৃষ্টতম  শত্রু। হাংগেরীর শাসক জন হুনায়দি(John Hunyadi) ওয়ালাকিয়া আক্রমণ করে দ্বিতীয় ভ্লাড কে উৎখাত করতে চেষ্টা করে। সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ভ্লাড কে যুদ্ধ ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে ও এতে হাংগেরী শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়। এরপর রাজা ভ্লাড বা ড্রাকুল উসমানীয়দের সহায়তায় ওয়ালাকিয়ার শাসনকর্তা হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তা লাভ করে।

ব্র্যান ক্যাসেল এর চতুর্পাশে মানুষের আবাসস্থল

রাজা দ্বিতীয় ভ্লাড এর সন্তান ছিল চারজন। এরা হলেন দ্বিতীয় মার্সিয়া(Mircea ||), তৃতীয় ভ্লাড(Vlad |||), চতুর্থ ভ্লাড(Vlad |V) ও রাদু সেল ফ্রুমোস(Radu cel Frumos)। তৃতীয় ভ্লাড এর আলোচনাই আমাদের এ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস কথনের মূল বিষয়। উল্লেখ্য, তৃতীয় ভ্লাড এর জন্ম তার পিতার সিংহাসনে আরোহণকালীন সময়ে। অর্থাৎ ১৪২৮-১৪৩১সালের মধ্যে।

রাজা দ্বিতীয় ভ্লাড ওয়ালাকিয়ার অনেক তরুণ যুবককে উসমানী সামরিক বাহিনীতে প্রেরণ করেন যাতে তারা এ পরাশক্তির মাধ্যমে দক্ষ সেনা রূপে প্রশিক্ষিত হয়। ১৪৪২ সালে ভ্লাড তার কনিষ্ঠ দুই ছেলেকেও সুলতানের কাছে পাঠান তাদেরকে উচ্চশিক্ষিত করার লক্ষ্যে। তৃতীয় ভ্লাড ও রাদু সেল ফ্রুমোস উসমানীয় রাজ্যে জ্ঞান অর্জন ও সুশিক্ষার মাধ্যমে বড় হয়ে উঠে। অধিকন্তু তারা দুই ভাই সুলতানের ছেলে দ্বিতীয় মুহাম্মদ এর সাথেই একত্রে বেড়ে উঠে। উল্লেখ্য, সুলতানের এ ছেলেই পরবর্তীতে সুলতান মুহাম্মাদ  আল ফাতিহ নামে অভিহিত হন ও ইতিহাসের পাতায় পরিচিত হন কন্সটান্টিনোপল বিজয়ী(১৪৫৩ সাল) হিসেবে ।  

মুসলিম পরিবেশে বড় হওয়ার সুবাদে স্বাভাবিকভাবেই তারা দু ভাই ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়ে উঠেন। রাদু দ্বিতীয় মুহাম্মদ এর একদম ঘনিষ্ট বন্ধুতে পরিণত হন। অপরদিকে তৃতীয় ভ্লাড এর মধ্যে ব্যতিক্রমী চিন্তা চেতনার ছাপ ফুটে উঠে। এর কারণ বিশ্লেষণ করে কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেছেন, পোপ কর্তৃক মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড পরিচালনা করার জন্য হাংগেরী কে চল্লিশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রদান যার অংশ লাভ করার জন্য সেও আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। তার মানসে ছিল ক্ষমতা অর্জনের অদম্য ও ত্বরিত বাসনা। এ কারণেই সে তার পিতা রাজা ভ্লাড কর্তৃক তাকে উসমানী সাম্রাজ্যে প্রেরিত করার সিদ্ধান্ত কে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে। সে তার ভাই রাদু ও দ্বিতীয় মুহাম্মদ এর বন্ধুত্বও সহ্য করতে অসমর্থ হয়ে উঠে। সুলতান ও অন্যান্যদের ভালবাসা ও স্নেহ এর সুযোগে সে স্বেচ্ছাচারী হিসেবে বিকাশ লাভ করার সুযোগ পায়। তৃতীয় ভ্লাড ও রাদু তারা উভয়েই উসমানী সামরিক বাহিনীর বিশেষ ও সবচেয়ে সম্মানিত শাখা জেনোসারি এর উচ্চপদস্থ সদস্য ছিল। তৃতীয় ভ্লাড যে কিনা পরবর্তীতে ড্রাকুলা হিসেবে পরিচিত হয়  তার মধ্যে তার অধস্তন সেনাসদস্যদের সাথে দমন পীড়নমূলক আচরণ করতে দেখা যায়। তার বড় ভাই দ্বিতীয় মার্সিয়া ও আরেক ভাই চতুর্থ ভ্লাড এর প্রতি তার বাবার বিশেষ খেয়ালও তার মধ্যে হিংসার উদ্রেক করে। বলা যায় নিজের মধ্যে তার এমন স্বতন্ত্র বোধের সৃষ্টি হয় যা তাকে কারও সাথে সহানুভূতিশীল হওয়া ও সামাজিক হওয়ার গুন থেকে দূরে রাখে। অন্যদিকে, বড় ভাই দ্বিতীয় মার্সিয়া দ্বারা নিজ বন্দীদেরকে শুলিতে চড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করার প্রক্রিয়াও তাকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করে। এ বিষয়টি সে বেশ উপভোগ করতে শুরু করে যা পরবর্তীতে তার যে কোন বিরুদ্ধাচারণকারী কিংবা শত্রুর সাথে প্রয়োগ করে আরও নৃশংসভাবে। মূলত, ইতিহাসে সে ভ্লাড দি ইমপেলার (Vlad The Impaler) নামে পরিচিত তার এ নিকৃষ্ট কর্মযজ্ঞের জন্যই৷

তৃতীয় ভ্লাড ও রাদু উসমানী সাম্রাজ্যের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ শাখা জেনোসারিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদেরকে সামরিকভাবে যোগ্য করে তুলছিলেন। এর মধ্যে ৫বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে।

১৪৪৭ সালের সময়কালগুলো; ওয়ালাকিয়ায় হাংগেরীর শাসক জন হুনায়দি পুনরায় আক্রমণ করে ও ড্রাকুলার বাবা দ্বিতীয় ভ্লাড কে হত্যা করে । জন হুনায়দি তার বড় ভাই দ্বিতীয় মার্সিয়া কে জীবন্ত কবরস্থ করে। এরপরে সে ড্রাকুলার কাজিন দ্বিতীয় ভ্লাডিস্ল্যাব(Vladislav ||) কে রাজা বানায় যে কিনা ড্রাকুলার পারিবারিক শত্রু ছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে ড্রাকুলা উসমানীয়দের সহায়তা নিয়ে হাংগেরীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় কিন্তু সে পিছু হটতে বাধ্য হয় ও এ যুদ্ধে সে ব্যর্থ হয়।

বালতেনির এই জলাভূমিতেই জন হুনায়দি দ্বিতীয় ভ্লাডকে হত্যা করে ফেলে দেয়

আশ্চর্যের বিষয় হলো, জন হুনায়দি তার পিতা ও ভাই এর নিষ্ঠুর হন্তারক হওয়া যত্ত্বেও সে তার সাথে পরবর্তীতে সন্ধি করে তার আজ্ঞাবহ হয়ে উঠে। মূলত ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সে সবগুলো সুযোগ ই কাজে লাগায়। পরবর্তীতে ভ্লাডিস্ল্যাব এর সাথে জন হুনায়দির সম্পর্কের অবনতি হয়। ১৪৪৮ সালে জন হুনায়দি পোপ এর মদদপুস্ট হয়ে উসমানীয়দের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলে সুযোগ বুঝে তৃতীয় ভ্লাড তার কাজিন ভ্লাডিস্ল্যাব কে হত্যা করে নিজে ওয়ালাকিয়ার রাজা হিসেবে আবির্ভূত হয়। শাসনক্ষমতা হাতে নিয়েই সে তার পার্শ্ববর্তী দেশ সমূহের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে এক ভোজসভায় আমন্ত্রণ করে ও ভোজ শেষে সে সকলকে বন্দি করে শূলিতে চড়িয়ে হত্যা করে। এভাবে সে তার ভীতিকর ও ভয়ংকর স্বভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে শত্রু ও ভবিষ্যত বিরুদ্ধাচারণ কারীদের মনে গভীর ত্রাস সৃষ্টি করে। সে মুসলিম তথা উসমানীয় সুলতানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, জিজিয়া কর দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অনতিবিলম্বে ১৪৬২ সালে, সে সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ কে হত্যা করার সংকল্পে রাঁতের আধারে টারগোভিস্টে নামক জায়গার কাছে উসমানীয় সেনা ক্যাম্পে আক্রমণ করে। উসমানীয় জেনোসারি সেনাসদস্যদের পোষাক পরিধান করে সে তার সেনাবাহিনী নিয়ে সেখানে এক রাতে ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করে সেখানের বনভূমির হাজার হাজার গাছের অগ্রভাগকে শূল এর মত বানিয়ে এদেরকে তার ভিতর গেঁথে রাখে। শূলিতে ঝুলে থাকা এসকল মৃতদেহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে গাছের বদলে মৃতদের এক ভয়ংকর অরণ্যে পরিণত হয়। ইতিহাসে এই কালো রাতটি টারগুভিস্তের রাতের আক্রমণ(Targoviste Night Attack) নামে বিশেষ ভাবে পরিচিত। এ রোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞের খবর পেয়ে সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ সাথে সাথে ওয়ালাকিয়ায় তাঁর বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন ও এ ভয়ংকর দৃশ্য দেখে মর্মন্তুদ যন্ত্রণা অনুভব করেন। তিনি ওয়ালাকিয়া আক্রমণ করেন ও তার শাসনভার প্রিয় বন্ধু ও উসমানীয় সমরনায়ক রাদু সেল ফ্রুমোস এর উপর অর্পণ করেন৷  ড্রাকুলা হাংগেরীতে পালিয়ে যায় ও জন হুনায়দির ছেলে মেথিয়াস করভিনাস(Matthius Corvinus) এর কাছে আশ্রয় চায় ও নিজের আনুগত্য প্রকাশার্থে ক্যাথলিক ধর্ম বিশ্বাসী হিসেবে দাবি করে ৷ মূলত সে কোন ধর্মেই অনুরাগী ছিল না। এদিকে ওয়ালাকিয়ার রাজা রাদু সেল ফ্রুমোস তাঁর ভাই ড্রাকুলার এসকল নৃশংসতার জন্য তার বিরুদ্ধে বিশেষভাবে সচেষ্ট হন। সে সময় খ্রিস্টান  জগতও ড্রাকুলার সেইসব পাশবিক ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে রাদুকে রোমানিয়ার শাসনকর্তা হিসেবে খুশিমনে মেনে নেয়।

ড্রাকুলার হত্যাযজ্ঞের নির্মমতার চিত্র

পরবর্তীতে, ড্রাকুলা হাংগেরীর রাজা কর্তৃক কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়। ১৪৬৩-১৪৭৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১২বছর হাংগেরীর রাজা তাকে বন্দি করে রাখে। মুসলিম শাসক রাদু সেল ফ্রুমোস মৃত্যবরণ করলে সে মলডাভিয়ার রাজা তৃতীয় স্টিফেনের(Stephen ||| of Moldavia) অনুরোধে ছাড়া পায়। ১৪৭৬ সালে করভিনাস এর বাহিনীতে যোগদান করে সে বসনিয়ায় উসমানীয়দের বিরুদ্ধে আবারো যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৪৭৭সালে সে সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ এর বাহিনীর কাছে পরাজিত হয় ও তাকে হত্যা করা হয়। তার বিগত সকল নৃশংসতার জন্য সুলতান আদেশ করেন তেমন ভাবেই তাকে স্মরণীয় রাখার জন্য। তার মাথার খুলি আলাদা করে কন্সটান্টিনোপলের(বর্তমান ইস্তাম্বুল) মূল ফটকে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। এভাবেই ড্রাকুলার কালো অধ্যায় শেষ হয় ও নিদর্শন হিসেবে সে বেঁচে থাকে মানুষের মনে ঘৃণা আর ত্রাস হয়ে। যদিও পরবর্তীতে রোমানিয়ায় খ্রিষ্টান শাসন আসার পর তাকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য জাতীয় বীর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

১৮৯৭ সালে ব্রেম স্টোকারের বিখ্যাত কল্পকাহিনী ড্রাকুলা উপন্যাস প্রকাশিত হয়। যদিও এখানে ইতিহাসের ড্রাকুলার গল্প চিত্রিত হয় নি কিন্তু জানা যায় যে, তার পৈশাচিকতা ও রক্তপিপাসার বিরল নিদর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়েই ড্রাকুলা নামকরণ করা হয়েছিল ।

লেখক পরিচিতি 

রুবাইয়া জাহান বাণী। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বন ও পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন ২০১৪সালে। বাংলাদেশের একমাত্র রেইনফরেস্ট লাউয়াছড়া বনের প্রজাপ্রতির উপর একটি গবেষণামূলক(Numerical Data Analysis) গ্রন্থ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন