গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৮০ বিলিয়ন ডলার, সময় লাগবে ৪০ বছর

গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৮০ বিলিয়ন ডলার, সময় লাগবে ৪০ বছর
গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৮০ বিলিয়ন ডলার, সময় লাগবে ৪০ বছর। ছবি : আরব নিউজ

গাজার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুনর্গঠনে সময় লাগবে অন্তত ৪০ বছর এবং খরচ হবে ৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। শুক্রবার ত্রাণ সংস্থাগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরায়েলের ১৫ মাসের যুদ্ধের কারণে গাজা বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভবনের পোড়া কাঠামো, ধ্বংসাবশেষ, এবং বিধ্বস্ত সড়কে ভরা গাজা এখন মানবিক সংকটে জর্জরিত। যুদ্ধের ফলে গাজার পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। অধিকাংশ হাসপাতাল সেবাকার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

রোববার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ পাওয়া যাবে। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট ডেটা অনুযায়ী, গাজার ৭০ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ২ লক্ষ ৪৫ হাজারের বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুনর্গঠনের আগে প্রথম কাজ হবে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ। গাজায় প্রায় ৫০ মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষ জমা হয়েছে, যা মিসরের গ্রেট পিরামিডের চেয়েও ১২ গুণ বড়। এই ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে শতাধিক ট্রাক পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করলেও সময় লাগবে অন্তত ১৫ বছর।

শেল্টার ক্লাস্টার নামে একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ জোটের প্রতিনিধি কোরি শের বলেন, ‘একটি দেশ বা জনগোষ্ঠীর জন্য এমন ভয়াবহ ক্ষতির আর কোনো উদাহরণ আমার মনে পড়ে না।’

স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠনের কাজকেই অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজার ৮০ শতাংশেরও বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, তারা অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন ও ১২ হাজারেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এ রোগীদের এক-তৃতীয়াংশই শিশু।

গাজার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ হলো উত্তরাঞ্চল, যা গত অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই এলাকাটি প্রায় জনশূন্য।

ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা জরুরি।

সম্পর্কিত ট্যাগ

আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন