উইঘুরদের ঐতিহাসিক মসজিদ এখন চীনের বিনোদন কেন্দ্র, চলছে নাচ গান

চীন সরকার ওই অঞ্চলে প্রায় ১৬ হাজার মসজিদ ধ্বংস বা আংশিক অপসারণ করেছে।
IMG_20260221_173752

সারা বিশ্বের মুসলিমরা যখন পবিত্র রমজান মাসের অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছেন, ঠিক সেই সময়ে চীনের সিনজিয়াং (পূর্ব তুর্কিস্তান) অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও ইবাদতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুরো অঞ্চলজুড়ে তাদের ওপর জোরপূর্বক ‘বসন্ত উৎসব’ (Spring Festival) পালনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশগরের ঐতিহাসিক ইদগাহ মসজিদের ভেতরে চীনা পর্যটকদের নাচের কিছু দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। উইঘুরদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও প্রতীকী এই প্রাচীন মসজিদের ভেতরে এমন কর্মকাণ্ডকে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পবিত্রতার চরম অবমাননা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্প থেকে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শী জুমরাত দাউত কয়েক দিন আগে জানান যে, কাশগরের ইদগাহ মসজিদের যে চত্বরে নামাজ আদায় করা হয়, সেখানে একজন চীনা নাগরিককে নাচতে দেখা গেছে এবং সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্ব তুর্কিস্তানের মসজিদগুলোতে ইসলামের অবমাননা করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

গত প্রায় ১০ বছর ধরে সিনজিয়াংয়ে জাতিগত নিধনের অংশ হিসেবে ধর্মীয় দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। ২০২০ সালে ‘অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট’ (ASPI)-এর একটি স্যাটেলাইট ইমেজ ভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, চীন সরকার ওই অঞ্চলে প্রায় ১৬ হাজার মসজিদ ধ্বংস বা আংশিক অপসারণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, যেসব মসজিদ ধ্বংস করা হয়নি, সেগুলোর অনেকগুলোকে কফিশপ বা চায়ের দোকানে রূপান্তরিত করা হয়েছে।

বর্তমানে ইদগাহ মসজিদের মতো হাতেগোনা কয়েকটি মসজিদকে চীন তাদের প্রচারণার (Propaganda) অংশ হিসেবে কেবল পর্যটকদের জন্য যাদুঘর হিসেবে উন্মুক্ত রেখেছে, যেখানে নামাজ আদায়ের ওপর রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। পর্যটকরা এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতিকে তোয়াক্কা না করে এমনকি রমজান মাসেও এসব পবিত্র স্থানে অবমাননাকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র : আল ইস্তিকলাল