পূর্ব তুর্কিস্তানে পরিকল্পিত জাতিগত নিধনযজ্ঞ (জেনোসাইড) চালাচ্ছে চীন। নিষিদ্ধ করা হয়েছে উইঘুর এবং অন্যান্য তুর্কি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও জাতীয় ঐতিহ্য এবং সামাজিক রীতিনীতিগুলো। এখন সামান্য ধর্মীয় অভিবাদন বা দোয়া করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। মৃত ব্যক্তিদের জন্য মনে মনে সাধারণ কোনো প্রার্থনা করা মানুষেরাও চরম হুমকির মুখে দিন কাটাচ্ছেন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ছোট ভিডিও প্রবাসে থাকা উইঘুরদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে চীনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ডুইন’ (টিকটকের চীনা সংস্করণ)-এ একজন উইঘুর নারী কর্মকর্তাকে অন্য উইঘুরদের সতর্ক করতে দেখা যায়। তিনি কঠোর হুমকি দিয়ে বলেন যে, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কবরের ছবি বা ভিডিও পোস্ট করবে অথবা মৃত আত্মীয়-স্বজনের শোক প্রকাশ করে ‘তার শেষ ঠিকানা সুন্দর হোক’-এর মতো সামান্য বাক্য লিখবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে যে, উইঘুরদের তাদের স্বজনদের লাশ ইট বা সিমেন্টের তৈরি বহুতল ভবনে দাফন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বাইরে থেকে এগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই যে এগুলো উইঘুরদের কবর।
চীন পূর্ব তুর্কিস্তানে অতি সামান্য ধর্মীয় ভাবপ্রকাশকেও অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে চীন। উইঘুররা শতাব্দী ধরে ব্যবহার করে আসছে এমন সাধারণ অভিবাদন যেমন: ‘আসসালামু আলাইকুম’ বা ‘আল্লাহ হাফেজ’ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ভয়ে মানুষ এখন ‘আল্লাহ তাকে রহম করুন’ বা ‘তার জান্নাত নসিব হোক’ বলার সাহস পায় না। এর পরিবর্তে তারা ‘তার শেষ ঠিকানা সুন্দর হোক’-এর মতো নিরপেক্ষ বাক্য ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।
ভিডিওতে ওই নারী কর্মকর্তা মূলত এই বাক্যটিকেই লক্ষ্যবস্তু করেছেন। তিনি কেবল উইঘুরদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে অপমানই করেননি, বরং যারা এমনটা করবে তাদের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা তাদের সেই জায়গায় পাঠিয়ে দেব যেখানে তাদের যাওয়া উচিত।’ তার কথা বলার ধরণ থেকে সহজেই বোঝা যায় যে, ভিডিওটি কাশগর এলাকায় ধারণ করা হয়েছে, যা চীনের দমন-পীড়নের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
বর্তমানে উইঘুরদের মৃতদেহগুলোও চীনের এই দমনমূলক নীতি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে যে, উইঘুরদের তাদের স্বজনদের লাশ ইট বা সিমেন্টের তৈরি বহুতল ভবনে দাফন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বাইরে থেকে এগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই যে এগুলো উইঘুরদের কবর। সেখানে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী জানাজা বা দাফনের কোনো সুযোগই নেই।
এই নারী কর্মকর্তার বক্তব্য চীনের সেই ভয়াবহ জাতিগত নিধনের প্রকৃত রূপটিই ফুটিয়ে তুলেছে। এটি প্রমাণ করে যে, চীন তাদের মিথ্যে প্রচারণা দিয়ে যা-ই ঢাকতে চাক না কেন, বাস্তবে তারা পূর্ব তুর্কিস্তানের মানুষের ওপর এমন এক ব্যাপক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে যা ইতিহাসে বিরল। একই সঙ্গে, চীনের অনুগত কিছু উইঘুর কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে এই অপরাধগুলো বাস্তবায়নে অংশ নিচ্ছে।
সূত্র : ইসতিকলাল











