মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য অর্ডার করতে ক্লিক করুন

আফগানিস্তান থেকে ভেনেজুয়েলা : ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বনাম সাম্রাজ্যবাদ 

আফগানিস্তানে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর ব্যয় করেছে এবং লিবিয়ায় একনায়কতন্ত্র সরাতে গিয়ে রাষ্ট্রটিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে।
ছবি : এবিসি নিউজ
ছবি : এবিসি নিউজ

গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলাকে হুমকি দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বিশাল সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে রেখেছেন। এতদিন পর্যন্ত একটি বিমানবাহী রণতরী, অন্তত সাতটি যুদ্ধজাহাজ, প্রচুর বিমান এবং ১৫,০০০ মার্কিন সৈন্য নিয়ে গঠিত এই বাহিনীকে তিনি ছোট ছোট নৌকার ওপর অবৈধ হামলার কাজে ব্যবহার করেছেন; তাঁর দাবি ছিল, এসব নৌকা মাদক পাচারে যুক্ত। তবে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার ট্রাম্প নাটকীয়ভাবে তাঁর এই অভিযানের মাত্রা বাড়িয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করেছেন। তিনি একে দেশটির বিরুদ্ধে ‘বড় আকারের আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।মিস্টার মাদুরোর প্রতি খুব কম মানুষই সহানুভূতি দেখাবেন। তিনি একজন অগণতান্ত্রিক ও নিপীড়ক শাসক এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি পশ্চিম গোলার্ধকে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে মাদুরোর পেটোয়া বাহিনী দ্বারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং নির্বিচারে আটকের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি কারচুপির আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রায় ৮০ লাখ মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে তিনি পুরো অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা উসকে দিয়েছেন।

তবে গত এক শতাব্দীতে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি থেকে যদি কোনো প্রধান শিক্ষা নেওয়ার থাকে, তা হলো—সবচেয়ে ঘৃণ্য কোনো সরকারকে জোর করে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

আফগানিস্তানে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর ব্যয় করেছে এবং লিবিয়ায় একনায়কতন্ত্র সরাতে গিয়ে রাষ্ট্রটিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের করুণ পরিণতি আজও আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যকে ভোগাচ্ছে। সম্ভবত সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হলো, লাতিন আমেরিকার চিলি, কিউবা, গুয়েতেমালা এবং নিকারাগুয়ার মতো দেশগুলোতে জোরপূর্বক সরকার উৎখাত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মাঝেমধ্যেই অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে।

ভেনেজুয়েলায় নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে মিস্টার ট্রাম্প এখনো কোনো সুসংগত ব্যাখ্যা দেননি। কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই তিনি আমাদের দেশকে একটি আন্তর্জাতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। ট্রাম্প যদি এর পক্ষে যুক্তি দেখাতে চান, তবে সংবিধান অনুযায়ী তাঁর করণীয় স্পষ্ট: তাঁকে কংগ্রেসে যেতে হবে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তাঁর এসব কর্মকাণ্ড মার্কিন আইন লঙ্ঘনের শামিল।

প্রশাসনের এই সামরিক দুঃসাহসিকতার নামমাত্র যুক্তি হলো ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ নির্মূল করা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিভিন্ন সরকার বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের নেতাদের ‘সন্ত্রাসী’ তকমা দিয়ে নিজেদের সামরিক আগ্রাসনকে পুলিশি অভিযান হিসেবে চালানোর চেষ্টা করেছে। বর্তমান ক্ষেত্রে এই দাবিটি বিশেষভাবেই হাস্যকর। কারণ, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবনের (ওভারডোজ) যে মহামারি চলছে, তার মূলে থাকা ফেন্টানাইল বা অন্য কোনো মাদকের উল্লেখযোগ্য উৎপাদক ভেনেজুয়েলা নয়। আর দেশটি যে কোকেন উৎপাদন করে, তার সিংহভাগই পাচার হয় ইউরোপে। মিস্টার ট্রাম্প একদিকে যখন ভেনেজুয়েলার নৌকাগুলোতে হামলা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে তিনি জুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। অথচ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে হার্নান্দেজ নিজেই এক বিশাল মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন।

ভেনেজুয়েলায় হামলার একটি অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা হয়তো মিস্টার ট্রাম্পের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল’-এ পাওয়া যাবে। সেখানে লাতিন আমেরিকার ওপর আধিপত্য বিস্তারের দাবি করে বলা হয়েছে: “বছরের পর বছর অবহেলার পর, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্ব ফিরিয়ে আনতে ‘মনরো ডকট্রিন’ (Monroe Doctrine) বা মনরো নীতি পুনর্প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর করবে।” নথিতে একে ‘ট্রাম্প করোলারি’ বা ‘ট্রাম্প সংযোজন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাহিনীকে এই অঞ্চলে সরিয়ে আনবে, গভীর সমুদ্রে পাচারকারীদের থামাবে, অভিবাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগ করবে এবং সম্ভবত এই অঞ্চলে আরও মার্কিন ঘাঁটি স্থাপন করবে।

মনে হচ্ছে, ভেনেজুয়েলাই এই নব্য সাম্রাজ্যবাদের প্রথম শিকারে পরিণত হয়েছে এবং এটি বিশ্বে আমেরিকার অবস্থানের ক্ষেত্রে এক বিপজ্জনক ও অবৈধ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক বৈধতা, উপযুক্ত আইনি এখতিয়ার কিংবা অভ্যন্তরীণ সমর্থন—এগুলোর কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে মিস্টার ট্রাম্প চীন, রাশিয়া বা অন্য দেশের স্বৈরশাসকদের তাদের প্রতিবেশীদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের অজুহাত তৈরি করে দিচ্ছেন। আরও প্রত্যক্ষভাবে বললে, ২০০৩ সালে যে মার্কিন দম্ভ ইরাক অভিযানের জন্ম দিয়েছিল, তিনি সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি করছেন।

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মিস্টার ট্রাম্প সামরিক বাড়াবাড়ির সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বলে মনে হয়েছিল। ২০১৬ সালে, তিনি সেই বিরল রিপাবলিকান রাজনীতিবিদদের একজন ছিলেন, যিনি প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ইরাক যুদ্ধকে নির্বুদ্ধিতা বলে অভিহিত করেছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি বলেছিলেন: “আমি কোনো যুদ্ধ শুরু করতে যাচ্ছি না। আমি যুদ্ধ থামাব।”

এখন তিনি সেই নীতি বিসর্জন দিচ্ছেন এবং তা করছেন অবৈধভাবে। সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো যুদ্ধ শুরুর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। হ্যাঁ, প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই এই আইনের সীমানা পাশ কাটিয়ে যান। কিন্তু মিস্টার বুশও তাঁর ইরাক আগ্রাসনের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন চেয়েছিলেন এবং পেয়েছিলেন। বুশের পরবর্তী প্রেসিডেন্টরাও ২০০১ সালের আইনের (যা ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর অনুমোদিত হয়েছিল) দোহাই দিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছেন। কিন্তু ভেনেজুয়েলায় হামলার ক্ষেত্রে মিস্টার ট্রাম্পের হাতে ন্যূনতম কোনো আইনি ভিত্তিও নেই।

সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসে বিতর্ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক ভূমিকা পালন করে। এটি প্রেসিডেন্টকে জনসাধারণের কাছে তাঁর পরিকল্পনার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে বাধ্য করে এবং কংগ্রেস সদস্যদের সেই পরিকল্পনার সঙ্গে নিজেদের দায়বদ্ধ করতে বাধ্য করার মাধ্যমে সামরিক দুঃসাহসিকতায় লাগাম টানে। ইরাক যুদ্ধের ভোটের পর বছরের পর বছর ধরে, হিলারি ক্লিনটন ও জন কেরির মতো ডেমোক্র্যাটরা—যারা মিস্টার বুশকে সমর্থন দিয়েছিলেন—রাজনৈতিক মূল্য গুনেছেন। অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্স ও বারাক ওবামার মতো যাঁরা যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন, তাঁরা পরবর্তী সময়ে দূরদর্শী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে, কংগ্রেসে বিতর্ক হলে মিস্টার ট্রাম্পের যুক্তির অসারতা প্রকাশ পেয়ে যেত। তাঁর প্রশাসন দাবি করেছে যে, ছোট নৌকাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি। কিন্তু বহু আইনি ও সামরিক বিশেষজ্ঞ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানও বলে এটি সত্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের চেষ্টা—যদি ধরেও নেওয়া হয় যে সব নৌকাই তা করছিল—সরকার উৎখাত বা সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করার কোনো প্রচেষ্টা হতে পারে না।

আমাদের সন্দেহ, মিস্টার ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন চাননি কারণ তিনি জানেন, কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান সদস্যও তাঁর দেশের গতিপথ নিয়ে গভীরভাবে সন্দিহান। ইতিমধ্যেই সিনেটর র‍্যান্ড পল ও লিসা মুরকোস্কি এবং প্রতিনিধি ডন বেকন ও থমাস ম্যাসি—যাঁরা সবাই রিপাবলিকান—এমন আইনের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন যা ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপকে সীমিত করবে।

মিস্টার ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা হামলার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় যুক্তিটি হলো, এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ট্রাম্প যে ছোট নৌকাগুলোকে মাদক পাচারকারী বলছেন, সেগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি নিছক সন্দেহের বশে মানুষ হত্যা করেছেন এবং তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেননি। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং পরবর্তী প্রতিটি প্রধান মানবাধিকার চুক্তি এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে। মার্কিন আইনও তাই বলে।

দেখে মনে হচ্ছে প্রশাসন নিরপরাধ ও প্রতিরক্ষাহীন মানুষদের হত্যা করেছে। একটি হামলায়, নৌবাহিনী প্রথম আঘাতের প্রায় ৪০ মিনিট পর একটি বিকল নৌকার ওপর দ্বিতীয়বার হামলা চালায়। এতে ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে বেঁচে থাকা দুই নাবিক নিহত হন, যাদের দেখে কোনোভাবেই হুমকি মনে হয়নি। আমাদের সহকর্মী ও সাবেক মার্কিন সেনা আইনজীবী ডেভিড ফ্রেঞ্চ যেমন লিখেছেন, “যুদ্ধ আর খুনের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয় আইন।”

মিস্টার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি যুক্তিগুলোই প্রধান, তবে এর বাইরেও একটি নির্মোহ ও বাস্তববাদী যুক্তি রয়েছে। আর তা হলো—এই পদক্ষেপ আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের অনুকূল নয়। এর সবচেয়ে কাছাকাছি কোনো আশাব্যঞ্জক উদাহরণ হতে পারে ৩৬ বছর আগে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশের পানামা আক্রমণ, যা একনায়ক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করে পানামাকে গণতন্ত্রের পথে এনেছিল। তবে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি অনেক দিক থেকেই ভিন্ন। পানামা ছিল অনেক ছোট একটি দেশ এবং পানামা খালের কারণে সেখানে দশকের পর দশক ধরে মার্কিন কর্মকর্তা ও সৈন্যদের উপস্থিতি ছিল।

ভেনেজুয়েলায় বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি বলেই মনে হচ্ছে। মিস্টার মাদুরো বন্দি হলেও, যেসব জেনারেল তাঁর শাসনকে টিকিয়ে রেখেছিলেন, তাঁরা হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যাবেন না। বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো, যাঁর আন্দোলনই দেশটির সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বলে প্রতীয়মান এবং যিনি গত মাসেই নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেছেন, তাঁর হাতে জেনারেলরা ক্ষমতা তুলে দেবেন—এমন সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

সম্ভাব্য নেতিবাচক ফলাফলের মধ্যে রয়েছে বামপন্থী কলম্বিয়ান সামরিক গোষ্ঠী ইএলএন-এর (ELN) সহিংসতা বৃদ্ধি, যাদের ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলে শক্ত অবস্থান রয়েছে। অথবা ‘কোলেক্টিভোস’ (colectivos) নামে পরিচিত আধা-সামরিক বাহিনীগুলোর তাণ্ডব, যারা মাদুরোর একনায়কতন্ত্রের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তৎপরতা চালিয়েছে। ভেনেজুয়েলায় অস্থিরতা আরও বাড়লে তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য বাজারকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং পুরো গোলার্ধজুড়ে অভিবাসী সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

তাহলে এই অঞ্চল এবং আমেরিকার স্বার্থের জন্য ভেনেজুয়েলা যে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তা কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত? আমরা সেই সব মরিয়া ভেনেজুয়েলানদের আশার অংশীদার, যাদের কেউ কেউ বিদেশি হস্তক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। কিন্তু এর কোনো সহজ উত্তর নেই। এতদিনে বিশ্বের বোঝা উচিত যে, জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের (Regime change) ঝুঁকিগুলো কী হতে পারে।

আমরা আশা জিইয়ে রাখব যে, আমাদের আশঙ্কার চেয়ে কম ক্ষতির মাধ্যমেই বর্তমান সংকটের অবসান ঘটবে। তবে আমাদের আশঙ্কা, মিস্টার ট্রাম্পের এই দুঃসাহসিক অভিযানের ফল হবে ভেনেজুয়েলানদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে আমেরিকার স্বার্থের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি। আমরা জানি, মিস্টার ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী কর্মকাণ্ড আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।