ইসরায়েলি দৈনিক ‘হারেৎজ’-এ প্রকাশিত এক কলামে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শাসনামলে দেশটির ভাগ্য নিয়ে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। লেখিকা ক্যারোলিনা ল্যান্ডসম্যান দাবি করেছেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক মৃত্যু বর্তমান ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সমাপ্তি ডেকে আনবে। তার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, নেতানিয়াহু অত্যন্ত সুকৌশলে নিজেকে রাষ্ট্রের সমার্থক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফলস্বরূপ তার ক্ষমতার অবসান ঘটা মানেই প্রচলিত ইসরায়েল রাষ্ট্রের চূড়ান্ত বিলুপ্তি।
ইসরায়েলি সাংবাদিক ল্যান্ডসম্যানের মতে, নেতানিয়াহু খুব শীঘ্রই ক্ষমতা হারাবেন, কিন্তু রাষ্ট্রকেও তিনি টিকতে দেবেন না। তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে ইসরায়েলের প্রতিটি ভালো ও ফাংশনাল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছেন। বর্তমানে ইসরায়েলের সমাজ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিভক্ত, সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা এবং বিচার বিভাগ ভীত-সন্ত্রস্ত।

প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ কিংবা সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিস্থিতি শান্ত করার সমঝোতা প্রচেষ্টার উদ্যোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, `এতটা হতাশাগ্রস্থ হওয়ার জন্য আমি দুঃখিত, কিন্তু আমাদের ভাগ্য আসলে ইতোমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং ফেরার পথ আর নেই। নেতানিয়াহু নিজেকে এমনভাবে রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়ে ফেলেছেন যে, তাকে সরাতে গেলে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে পড়বে। সবচেয়ে ভয়ের কথা হলো, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের প্রতি যে ঘৃণা বাড়ছে সেটা ইহুদিদের আবারও এক ইতিহাসের ট্র্যাজেডির মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। যারা ভাবছেন নেতানিয়াহু গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, তারা আসলে এক ঘোরের মধ্যে আছেন।’
ল্যান্ডসম্যান ইসরায়েলের বর্তমান বিরোধী দলগুলোরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, তারা একদিকে নেতানিয়াহুকে ঘৃণা করে, কিন্তু অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রকারান্তরে তাকেই পুষ্ট করছে। তারা নিয়মিত কর দিচ্ছে, সেনাবাহিনীতে সেবা দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের পক্ষে সাফাই গাইছে। যেহেতু বর্তমানে নেতানিয়াহুই রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, তাই তাদের এই দেশপ্রেম আসলে নেতানিয়াহুর শাসনকালকেই দীর্ঘায়িত করছে।
কলামের শেষে তিনি এক ভয়াবহ উপমা টেনেছেন। তিনি ইসরায়েলকে একটি মরণব্যাধিতে আক্রান্ত দেহের সাথে তুলনা করে বলেছেন; শরীর (রাষ্ট্র) থেকে এখন আর টিউমার (নেতানিয়াহু) অপসারণ করে লাভ নেই। কারণ, সেই টিউমারটি পুরো শরীরে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের মৃত্যু ইতোমধ্যেই ঘটে গেছে।
সূত্র: হারেৎজের বরাতে আল জাজিরা











