ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড আইন নিয়ে যা ভাবছে তাদের পরিবার

মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি হাজার হাজার ফিলিস্তিনির পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত এখন কাটছে চরম উদ্বেগ আর আতঙ্কে। সপ্তাহখানেক আগে পর্যন্তও তাদের মূল দুশ্চিন্তা ছিল বন্দিদের ওপর চলা অমানবিক নির্যাতন নিয়ে। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মুখে নির্যাতনের যে লোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছিল, তাতেই তাদের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল।

তবে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড’ সংক্রান্ত আইনটি এই ভয়কে এক নতুন ও ভয়াবহ রূপ দিয়েছে। এখন আর কেবল নির্যাতনের ভয় নয়, বরং প্রিয়জনকে চিরতরে হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। প্রতিটি মুহূর্ত তারা এই আতঙ্কে কুঁকড়ে থাকেন। মনে হয় যেন এখনই প্রিয়জনের গলায় ফাঁসির দড়ি চেপে বসছে।

​গত ৩০ মার্চ সোমবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া এই আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের ওপর সীমাবদ্ধ এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বন্দিদের পরিবার না বিশ্বাস করে এই আইনকে, না এই আইন প্রণেতাদের। ফিলিস্তিনিরা মনে করেন, এটি আসলে একটি সুদূরপ্রসারী ও বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। তাদের মতে, ভবিষ্যতে ঢালাওভাবে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পথ প্রশস্ত করতেই এই আইনি ভিত্তি তৈরি করা হলো।

পাশের ঘর থেকে ভেসে আসা কান্না

বাহ্যিকভাবে দেখে মনে হচ্ছিল যেন কিছুই ঘটেনি, যেন কোনো আইনই পাস হয়নি। আয়া মেহদি স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুক স্ক্রল করছিলেন, বিভিন্ন পোস্ট আর ভিডিওতে নিজের মতামত দিচ্ছিলেন। কিন্তু বাইরে থেকে তাকে যতটা শান্ত দেখাচ্ছিল, ভেতরটা ততটাই জ্বলছিলো। কারণ তিনি কেবল একজন কারাবন্দির স্ত্রী নন, তিনি একজন মা-ও বটে; যার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল সন্তানদের কাছে খবরটি পৌঁছানোর পর নিজের বেদনাকে আড়াল করা।

আয়া মেহদি  বলেন, যখন আমি খবরটি পড়লাম, তখন মনে হলো ভয়ে আমার হাত-পা জমে গেছে। হৃৎপিণ্ডটা এত জোরে ধড়ফড় করছিল যে মনে হচ্ছিল এই বুঝি থেমে যাবে। কিন্তু নিজের দুশ্চিন্তাকে সময় দেওয়ার মতো ফুরসতটুকুও আমার ছিল না।

আমি আমার চার সন্তানের (যাদের বয়স ৩ থেকে ১২ বছরের মধ্যে) কাছ থেকে খবরটি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পাশের ঘর থেকে বড় দুই মেয়ের কান্নার শব্দ ভেসে এল।

আয়া জানান, তার মেয়েরা বারবার ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন করছিল: এই মৃত্যুদণ্ড কি বাবার ক্ষেত্রেও হবে? তিনি বলেন: তখন আমাকে একজন মায়ের ভূমিকা পালন করতে হয়েছিল। আমি নিজের ভয়কে মনের ভেতর চেপে রেখে এমন ভাব করলাম যেন এই খবরটি আমার কাছে কিছুই নয়। আমার ছোট মেয়ে দুটি আমাকে বিশ্বাস করে একসময় ঘুমিয়ে পড়ল।

২০২৩ সালের নভেম্বর। চারদিকে যুদ্ধের বিভীষিকা। প্রাণ বাঁচাতে উত্তর গাজা থেকে সপরিবারে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিলেন আয়া। কিন্তু পথিমধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর চেকপয়েন্টে গ্রেপ্তার হন তার স্বামী বাসেল। সেই থেকে শুরু হয় আয়ার এক অন্তহীন প্রতীক্ষা।

আয়া জানেন, তার স্বামী এমন কোনো অপরাধ করেননি যার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়। কিন্তু দখলদার বাহিনীর প্রতি তার অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাস মোটেও সুখকর নয়। তিনি বলেন, ওরা প্রচণ্ড নৃশংস, কোনো কিছু করার জন্য ওদের অজুহাতের প্রয়োজন হয় না। ওরা চাইলে সব বন্দিকেই মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে; ওদের থামানোর মতো কেউ নেই।

মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত নতুন এই আইনটি পাস হওয়ার খবর আয়ার কাছে ছিল বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো। তিনি ভেবেছিলেন, বিশ্ববিবেকের চাপে হয়তো আইনটি শেষ পর্যন্ত আটকে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা যখন সামনে এলো, তখন তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন।

আশার আলো যখন সব দিক থেকে নিভে আসছে, তখনো আয়া লড়াই করছেন এক বুক বিশ্বাস নিয়ে। মুসলিম দেশগুলোর নীরবতা তাকে ব্যথিত করে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যেখানে মসজিদুল আকসা অবরুদ্ধ থাকার পরও কেউ এগিয়ে আসে না, সেখানে বন্দিদের মুক্তির জন্য কেউ কিছু করবে—এমন আশা তিনি আর করেন না।

তবে দুনিয়াবি সব আশা ছেড়ে দিলেও আয়া আল্লাহর ওপর আস্থা হারাননি। তিনি বলেন:

আল্লাহর প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাসই আমার বেঁচে থাকার শক্তি। আমি প্রতিনিয়ত দোয়া করছি। আর শক্তি পাই আমার স্বামীর পাঠানো বার্তা থেকে। সম্প্রতি একজন আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি খবর পাঠিয়েছেন, তিনি আমার জন্য দোয়া করছেন, যাতে আল্লাহ আমাকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।

অভিযোগ নেই, তবুও পিছু ছাড়ে না মৃত্যুর ভয়

আমার ছেলে একজন নার্স, মানুষের সেবা করাই ছিল তার কাজ। এটা কি এমন কোনো অপরাধ, যার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে? কেন আজ আমাকে তার মৃত্যুদণ্ডের ভয়ে দিন কাটাতে হবে? তাকে কি এখনই মুক্তি দেওয়া উচিত নয়? ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর কার্যকর হওয়া নতুন আইন এবং পরিবারের ওপর তার প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এভাবেই নিজের আর্তনাদ তুলে ধরেন জামাল আল জাইশ।

২০২৩ সালের মার্চ মাস। গাজার আশ শিফা হাসপাতালে নার্স হিসেবে মানবিক দায়িত্ব পালন করছিলেন জামালের ছেলে মাজেদ। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।

জামাল বলেন, কোনো অভিযোগ ছাড়াই মাজেদকে আটকে রাখা হয়েছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর তার ‘প্রশাসনিক আটকাদেশ; (Administrative Detention) নবায়ন করা হচ্ছে। আইনিভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও জামাল ও তার পরিবার মারাত্মক উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। কারণ তিনি জানেন, দখলদাররা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যেকোনো সময় যা খুশি তা-ই করতে পারে।

সব বন্দির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন: আমি সব বন্দির জন্যই চিন্তিত। দোয়া করি, কারো ওপরই যেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হয়। আমার সন্তান অন্যদের সন্তানের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়।

ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে বিতর্কিত এই আইনটি অনুমোদনের পর মাজেদের মায়ের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। জামাল বলেন, এই আইনটি আমাদের দুঃখের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। ছেলের গ্রেপ্তারের পর থেকে তার মা এক মুহূর্তের জন্যও কান্না থামায়নি। প্রতিটি স্মৃতি মনে করে সে কান্নায় ভেঙে পড়ছে। আর আমি কেবল নামাজের সিজদায় আল্লাহর কাছে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাই।

২৬ বছর বয়সী তরুণ মাজেদ বর্তমানে কারাগারের মানবেতর পরিবেশ ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। তবে ছেলের মুক্তির জন্য কোনো আন্তর্জাতিক মহলে আবেদন জানাতে রাজি নন এই বাবা। তিনি মনে করেন—বিশ্ব আজ ফিলিস্তিন এবং বন্দিদের এই নৃশংসতার মুখে একাই ফেলে রেখেছে; কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে না।

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা: ক্যানসার আক্রান্ত বন্দি ও একটি পরিবারের আর্তনাদ

ব্লাড ক্যানসারের চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ওয়ালিদ মুসবাহকে। দেখতে দেখতে একটি বছর পেরিয়ে গেছে। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মেলেনি কোনো চিকিৎসা, যার ফলে তার শারীরিক অবস্থা এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন—আইনজীবীর মাধ্যমে এই খবরটুকু পেয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার পরিবার।

ওয়ালিদের স্ত্রী তাসনিম তাদের মানবেতর জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: আমরা সারাক্ষণ এক অজানা আতঙ্কে ডুবে থাকি। বন্দিদের ওপর দখলদারদের অমানুষিক নির্যাতনের কথা শুনলেই আমাদের বুক কেঁপে ওঠে। সে কেমন আছে, কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—এসব ভেবে আমাদের চোখের পানি থামে না। মৃত্যুদণ্ড আইন পাস হওয়ার আগেই আমরা দিশেহারা ছিলাম, এখন আমাদের অবস্থা কী হতে পারে? এই আইনটি আমাদের জন্য যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

তিনি আরও বলেন, তাদের হৃদয়ে যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল, যা কেবল ওয়ালিদের মুক্তিতেই সারতে পারত, এই নতুন আইন যেন সেই ক্ষতে লবণের ছিটা দিয়ে দিয়েছে। তাসনিম জানান, আইন পাসের খবর শুনে কান্না আর দোয়া করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনার মতো কোনো ক্ষমতা তাদের হাতে নেই।

দশ ও বারো বছর বয়সী দুই সন্তানের মা তাসনিম আপ্রাণ চেষ্টা করছেন যাতে এই বিভীষিকাময় খবরটি তাদের কানে না পৌঁছায়। বাবার গ্রেপ্তার নিয়ে তারা যে শোকের সাগরে ভাসছে, তা সহ্য করার শক্তিই তাদের নেই। এর ওপর মৃত্যুদণ্ডের খবর তাদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।

নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তাসনিম বলেন: আমি বুঝতে পারছি না এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাব। একদিকে স্বামীর পরিণতি নিয়ে শঙ্কা, অন্যদিকে তাকে ছাড়া এই জীবন আর সন্তানদের বিশাল দায়িত্ব—সব মিলিয়ে আমি দিশেহারা। তার কোনো ক্ষতি হবে, এটা আমি কল্পনাও করতে পারি না। আমি তাকে আমার পাশে চাই, যাতে জীবনের লড়াইটা আমরা দুজন মিলে একসাথে লড়তে পারি।

ওয়ালিদের অসুস্থতা পরিবারের দুশ্চিন্তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেও তাসনিম তার স্বামীর মনোবলের ওপর ভরসা রাখছেন। তার মতে, ওয়ালিদ অত্যন্ত দৃঢ় ব্যক্তিত্বের মানুষ এবং সবসময় আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের নীরবতাকে এই নিষ্ঠুর আইন পাসের প্রধান কারণ হিসেবে মনে করেন তাসনিম। তার বিশ্বাস, বিশ্ববাসীর কাছ থেকে এখন আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আশা করা বৃথা; তাই তিনি এখন কেবল মহান আল্লাহর ন্যায়বিচারের ওপরই পূর্ণ ভরসা রেখেছেন।

নিরন্তর প্রার্থনা: এক বাবার আর্তনাদ

২০২৪ সালের নভেম্বর। লুয়াই হাসুনাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তার বয়স ছিল মাত্র আঠারো। জীবনের শুরুতেই এমন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি হওয়ায় তার পরিবারের দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই। কারাগার ফেরত বন্দিদের মুখে নির্যাতনের যে শিউরে ওঠার মতো বর্ণনা শোনা যায়, তা লুয়াইয়ের মতো এক তরুণ কীভাবে সহ্য করছে—এই ভাবনায় প্রতিনিয়ত দগ্ধ হচ্ছেন তার স্বজনেরা। তার ওপর নতুন করে মৃত্যুদণ্ড আইনের খবরটি তাদের উৎকণ্ঠাকে এখন চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছে।

লুয়াইয়ের বাবা ইমাদ হাসুনা তার মনের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: আমার ছেলে যদি কারাগারে নাও থাকত, তবুও এই আইন পাসের খবর অন্য বন্দিদের প্রতি সমবেদনায় আমাকে ব্যথিত করত। আর এখন তো আমার নিজের কলিজার টুকরোই সেখানে বন্দি; আমাদের মনের অবস্থা বোঝানোর মতো কোনো ভাষা নেই।

ছেলের সামান্যতম সংবাদের জন্য ইমাদ যেন চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকেন। কারাগার থেকে কেউ মুক্তি পেলে তার কাছে ছুটে যান যদি ছেলের কোনো খবর পাওয়া যায়। তিনি জানান, যখন থেকে এই আইনের গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তখন থেকেই তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া অসম্ভব হলেও তাকদিরের ওপর ছেড়ে দেওয়া ছাড়া তাদের আর কিছুই করার নেই।

তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা ইমাদের দোয়ায় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি; আইন পাসের আগেও তিনি যেভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতেন, এখনো তাই করছেন। প্রতিটি সিজদায় তার একটিই আকুতি: হে আল্লাহ, আমার ছেলেকে সহি-সালামতে আমার কোলে ফিরিয়ে দিন।

নিজের দুশ্চিন্তা আড়াল করতে ইমাদ যুক্তি খোঁজেন ছেলের নির্দোষিতার মাঝে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দখলদাররা লুয়াইয়ের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করতে পারেনি। তাই যুক্তির খাতিরে এই আইন তার ওপর কার্যকর হওয়ার কথা নয়। তবুও একজন বাবা হিসেবে তার মন মানে না। তিনি ব্যথিত কণ্ঠে বলেন, কারাগারে থাকা প্রতিটি বন্দিই আমার সন্তানের মতো; একজনের কষ্ট মানেই আমাদের সবার কষ্ট

বলার মতো ভাষা নেই

নতুন এই আইনটির কথা বলতে গিয়ে সুজান আবু মাতারের কণ্ঠ বারবার ভিজে যাচ্ছিল। সংবাদের ভয়াবহতা তাকে এতটাই স্তব্ধ করে দিয়েছে যে, নিজের মানসিক যন্ত্রণা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দই তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। রুদ্ধকণ্ঠে তিনি কেবল এটুকুই বলতে পারলেন: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল—আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক। ইনশাআল্লাহ, সব বন্দি যেন সুস্থ অবস্থায় মুক্তি পেয়ে ফিরে আসে।

গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার ঠিক দুই মাস পর সুজানের স্বামী আহমাদ আবু মাতারকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় দখলদার বাহিনী। সেই দিন থেকে সুজান আর তার কন্যারা প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করছেন আহমাদের একটি খবরের অপেক্ষায়। কিন্তু প্রতীক্ষার এই প্রহরে এমন একটি ভয়াবহ দুঃসংবাদ আসবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।

এই নতুন আইনটিকে সুজান ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এই তীব্র অন্ধকারের মাঝেও তিনি আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন। তার কণ্ঠে ঝরে পড়ে এক অটল আত্মবিশ্বাস:

আমার কাছে ভয়ের চেয়ে আশাই বড়। প্রথমত, আল্লাহর ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস। আর দ্বিতীয়ত, আমি জানি আমার স্বামী নির্দোষ। দখলদাররা তার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগই আনতে পারবে না, যার কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হয়। 

আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন