মালির রাজধানী বামাকো এখন আক্ষরিক অর্থেই অবরুদ্ধ। আল-কায়েদা সমর্থিত গোষ্ঠী ‘নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন’ (JNIM) এবং উত্তর মালির তুয়ারেগ ও আরব যোদ্ধাদের জোট ‘আজওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট’-এর এই অভাবনীয় সমন্বয় দেশটির সামরিক জান্তার অস্তিত্বকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিদ্রোহীদের ঘোষিত অবরোধে রাজধানীর সঙ্গে সংযোগকারী প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন বিচ্ছিন্ন।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জান্তা সরকারের জন্য এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সমন্বিত তীব্র এক হামলায় দেশটির প্রভাবশালী প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারার মৃত্যু এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কিদাল-এর পতন বিদ্রোহীদের মনোবলকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে। ২০২০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বর্তমান জান্তা সরকার অনেক চড়াই-উতরাই পার করলেও, এবারের মতো অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে আগে কখনও পড়েনি।
মালির পরিস্থিতি এখন পুরো সাহেল অঞ্চলের ভূ-রাজনীতির জন্য এক বড় ধাঁধা। প্রশ্ন উঠেছে—বামাকোর কি খুব দ্রুতই সামরিক পতন ঘটবে, নাকি দীর্ঘ মেয়াদী অবরোধে দেশটি তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যাবে?

বিপদের ভূগোল এবং ভয়াবহ রণকৌশল
মালির বর্তমান নিরাপত্তা সংকটের গভীরতা বুঝতে হলে দেশটির মানচিত্রকে দুটি ভিন্ন গোলার্ধে ভাগ করে দেখা প্রয়োজন: দক্ষিণে অবস্থিত রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এবং সুদূর উত্তরের দুর্গম প্রান্তিক অঞ্চল।
দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাজধানী বামাকো মালির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হৃৎপিণ্ড। এই শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘কাতি’ শহর, যাকে মালির ‘সামরিক দুর্গ’ বলা হয়। এটি কেবল সেনাবাহিনীর প্রধান ঘাঁটিই নয়, বরং অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা-র প্রধান নিরাপত্তাবলয়। জান্তার জন্য প্রকৃত বিপর্যয় নেমে আসে তখন, যখন বিদ্রোহীরা এই দুর্ভেদ্য দুর্গের নিরাপত্তা দেয়াল ভেদ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে।
দক্ষিণের সংকটের সাথে এবার যুক্ত হয়েছে উত্তর ফ্রন্টের বিপর্যয়। প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কৌশলগত জনপদ ‘কিদাল’ এখন তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের কবজায়। ২০২৩ সালে এই শহরটি জয় করা ছিল জান্তা সরকারের এক অভাবনীয় ‘নৈতিক বিজয়’, যা তারা রাশিয়ার সাথে তাদের সামরিক মৈত্রীর শ্রেষ্ঠ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছিল। সেই কিদালের পতন সরকারের সেই সাফল্যের দাবিকে এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।
কিদালের পুনরায় পতন কেবল একটি প্রান্তিক ভূখণ্ড হারানো নয়; বরং এটি পুরো সাহেল অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে এক প্রচণ্ড ঝাঁকুনি। গাও এবং মেনাকার মতো কৌশলগত অঞ্চলগুলো দখলের চেষ্টার কারণে এখন উত্তর ও দক্ষিণের সংযোগকারী যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মুখে।

বিদ্রোহী জোটের নেতাদের লক্ষ্য এখন স্পষ্ট—উত্তরের শহরগুলোতে নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ওই অঞ্চলের স্বাধীনতার পথে একটি ‘অপরিবর্তনীয় বাস্তবতা’ (Fact on the ground) তৈরি করা। পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শক্তিশালী এক সামরিক জান্তা আজ খোদ রাজধানীতেই অবরুদ্ধ এবং অস্তিত্ব রক্ষার চরম চাপে পিষ্ট।
‘প্রয়োজনের জোট’ ও শ্বাসরোধ করার কৌশল
মালির চলমান সংকটে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে, তা হলো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির অভূতপূর্ব এই ঐক্য। একদিকে রয়েছে ‘আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট’, যাদের মূল লক্ষ্য উত্তরের তুয়ারেগ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র; অন্যদিকে রয়েছে ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন’ (JNIM)।
গবেষকদের চোখে এই ঘনিষ্ঠতা স্রেফ এক ‘প্রয়োজনের জোট’ (অ্যালায়েন্স অব নেসেসিটি)। কারণ, দল দুটির লক্ষ্য ও আদর্শিক অবস্থান একেবারেই বিপরীত। ‘নুসরাত আল-ইসলাম’ যেখানে একটি আন্তঃসীমান্ত ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, সেখানে আজাওয়াদ ফ্রন্টের মূল ভিত্তি হলো তুয়ারেগ জাতীয়তাবাদ। তবে অভিন্ন শত্রুর মোকাবিলায় তারা এখন একই মোহনায় এসে মিলেছে।
‘সেন্টার ফর আল জাজিরা স্টাডিজ’-এর গবেষক সিদি আহমাদ ওলেদ আল-আমির এই পরিস্থিতিকে কেবল সহিংসতার প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, এটি মালিতে ‘যুদ্ধের প্রকৃতির আমূল পরিবর্তন’। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন আর কেবল সেনাবাহিনীর ওপর গেরিলা হামলা চালিয়েই শান্ত থাকছে না; বরং তারা প্রধান সড়ক ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতা পুরোপুরি অচল করে দিতে চাইছে।
বাস্তবে এই ‘শ্বাসরোধ করার কৌশল’ (Choking strategy) ইতিমধ্যে বামাকোর জনজীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ফরাসি সংবাদপত্র ‘লে মন্ডে’ (Le Monde) এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে, রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান ছয়টি সড়কের মধ্যে তিনটিই এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে বামাকো এখন কার্যত একটি অবরুদ্ধ নগরী হওয়ার পথে।
রুশ মিত্রদের সমর্থনের কী অবস্থা?
২০২১ সাল থেকে মালির সামরিক জান্তা তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলে এক আমূল পরিবর্তন আনে। ঐতিহাসিক মিত্র ফ্রান্সকে বহিষ্কার করে তারা নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং কুখ্যাত ‘ওয়াগনার গ্রুপ’-এর উত্তরসূরি ‘আফ্রিকান লিজিয়ন’-কে দেশে স্বাগত জানায়। কিন্তু যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা ছিলেন মস্কো-বামাকো অক্ষশক্তির প্রধান কারিগর, তাঁর মৃত্যু ক্রেমলিনের সাথে জান্তার নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে।
মাঠপর্যায়ে রুশ বাহিনীর অবস্থান এখন নড়বড়ে। আলজেরিয়ার মধ্যস্থতায় আলোচনার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিদাল শহর থেকে রুশ বাহিনীর পিছু হটা জান্তার জন্য এক বড় ধাক্কা। ‘কনরাড অ্যাডেনাউয়ার ফাউন্ডেশন’-এর গবেষক উলফ ল্যাসিং আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রুশ বাহিনী বর্তমানে তাদের ‘নির্ভরযোগ্যতা হারিয়েছে’। কিদাল ছাড়ার সময় তারা এমনকি তাদের ড্রোন স্টেশন ও মূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম পর্যন্ত ফেলে রেখে এসেছে।
যদিও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে ‘কথিত চরমপন্থা মোকাবিলায়’ মালিতে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী তারা এখনও আকাশপথে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, তবে এই সহায়তার কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মনে গভীর সংশয় রয়েছে। হামলাকারীরা যখন রাজধানীর উপকণ্ঠে পৌঁছে গেছে, তখন ‘রুশ আকাশ সুরক্ষা’ আদতে কতটা সুরক্ষা দিতে পারছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানও এখানে বেশ কৌতুহলউদ্দীপক। আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট এর মুখপাত্র মোহাম্মদ আল মওলুদ রামাদান এক স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছেন, রাশিয়ার সাথে তাদের কোনো মৌলিক শত্রুতা নেই। তাদের লড়াই মূলত বামাকোর বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। তবে রুশ বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন:
‘তারা এমন এক শাসককে সমর্থন দিচ্ছে যারা গণহত্যা চালিয়েছে এবং গ্রামকে গ্রাম ধ্বংস করেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো আজওয়াদ অঞ্চল তথা সমগ্র মালি থেকে রুশদের চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত করা।’

বামাকোর কি পতন হবে?
সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো যদিও দাবি করছে বর্তমান শাসনব্যবস্থা ‘আজ হোক বা কাল ভেঙে পড়বেই’, তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা অদূর ভবিষ্যতে বামাকোর ওপর কোনো বড় ধরনের সরাসরি সামরিক বিজয়ের সম্ভাবনা কম দেখছেন। প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের এক বিশাল মহানগরীকে পুরোপুরি দখল ও নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো জনবল বা সক্ষমতা এই গোষ্ঠীগুলোর নেই।
মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট’-এর নিরাপত্তা প্রকল্প ‘ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট’ (CTP) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আল-কায়েদা সমর্থিত ‘নুসরাতুল ইসলাম’-এর লড়াকু সৈন্য সংখ্যা আনুমানিক মাত্র ৬,০০০। এই ক্ষুদ্র বাহিনীকে আবার মালি ও বুরকিনা ফাসোর বিশাল ভূখণ্ড জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে হয়।
ইতিহাসের পাতায় যারা সফলভাবে সরকার পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের তুলনায় এই সংখ্যাটি নগণ্য। একটি নিয়মিত সামরিক বাহিনীকে সম্মুখ সমরে পরাজিত করতে যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন, তা বিদ্রোহীদের নেই। তাই তারা সরাসরি আক্রমণের (Classic assault) বদলে দীর্ঘমেয়াদী ‘শ্বাসরোধ করার কৌশল’ বা অবরুদ্ধ করার পথ বেছে নিয়েছে।
মালির ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমানে দুটি প্রধান সম্ভাবনা বা ‘সিনারিও’ আলোচিত হচ্ছে:
১. আঘাত মানেই পতন নয়: সাহেল অঞ্চল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ওভিগুই এগোইগো আল জাজিরাকে জানান, সাম্প্রতিক হামলাগুলো জান্তা সরকারের জন্য এক ‘বিরাট ধাক্কা এবং চরম বিস্ময়’ ছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের দিন ফুরিয়ে এসেছে—এমন উপসংহারে পৌঁছানো এখনই ঠিক হবে না। তার মতে, পরিস্থিতি যতটা সরল দেখাচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
২. পতন নয়, বরং পতনের পরিবেশ তৈরি: ‘ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট’-এর মতে, বিদ্রোহীদের মূল লক্ষ্য সরাসরি শহর দখল করা নয়; বরং সামরিক জান্তাকে এতটাই দুর্বল করে দেওয়া যাতে তারা অভ্যন্তরীণ চাপে ভেঙে পড়ে অথবা ক্ষমতাচ্যুত হয়। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বামাকোতে এমন একটি ‘নতুন কর্তৃপক্ষ’ বা সরকার দেখা, যাদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সহজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
সামরিক চাপের পাশাপাশি বামাকোর অন্দরে এখন রাজনৈতিক অস্থিরতাও তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন, সাংবাদিক ও গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা-র নেতৃত্বের ভিত্তি নড়বড়ে করে দিয়েছে, যা তার শাসনের অবসান ঘটাতে পারে।
মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট’ (CTP)-এর সূত্রমতে, মালির সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এখন বিকল্প নেতৃত্বের কথা ভাবছে। তারা জেনারেল মালিক দিয়াও-কে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের প্রধান হিসেবে দেখার পক্ষে সমর্থন দিচ্ছে। গবেষকদের মতে, দিয়াও একজন ‘সর্বসম্মত প্রার্থী’ হতে পারেন, যিনি গোইতাকে সরিয়ে দিলেও রাষ্ট্রের ওপর সেনাবাহিনীর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হবেন।
এদিকে, নিজের পলায়ন বা ক্ষমতা হারানোর গুজব উড়িয়ে দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা। সম্প্রতি এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি দাবি করেন, ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে।’ তবে একই সাথে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বর্তমান অবস্থা ‘অত্যন্ত গুরুতর’।
বিদ্রোহীরা যখন অবরোধের মাধ্যমে রাজধানীর শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করছে, তখন গোইতা দেশবাসীকে ‘আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার’ আহ্বান জানিয়েছেন। নিজের নড়বড়ে বৈধতা টিকিয়ে রাখতে এবং জনমনে বিভাজন ঠেকাতে তিনি দেশবাসীকে একটি ‘জাতীয় জাগরণের’ ডাক দিয়েছেন। কিন্তু রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বিদ্রোহীদের শক্ত অবস্থান এই ডাককে কতটা ফলপ্রসূ করবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা











