দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ তজাচি ব্রাভারম্যানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন হ্যাক করার দাবি করেছে ইরানের একটি হ্যাকার গ্রুপ। ‘হানযালা’ নামের ওই গ্রুপটি রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় জানায়, এই সাইবার অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন বিবি’স গেট: দ্য ফল অব দ্য গেটকিপার’।
হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী, অভিযানের মাধ্যমে তারা সংশ্লিষ্ট ফোন থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কনট্যাক্ট তালিকা, ছবি ও ভিডিও। ইতিমধ্যে এসব তথ্যের কিছু অংশ অনলাইনে প্রকাশ করা শুরু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোন হ্যাকের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
বিবৃতিতে হ্যাকাররা জানায়, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহল এবং এখনো গোপনীয়তার ভ্রান্ত ধারণায় বিশ্বাস রাখা সব কর্মকর্তার উদ্দেশে তাদের এই বার্তা। তারা দাবি করে, নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ তজাচি ব্রাভারম্যানের কাছে সংরক্ষিত সব গোপন তথ্য এখন তাদের হাতে। ব্রাভারম্যানকে ‘গেটকিপার’ ও ‘নিষিদ্ধ সব সত্যের ভাণ্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে হ্যাকাররা বলেছে, এনক্রিপ্টেড কথোপকথন, গোপন সমঝোতা, নৈতিক ও আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্ল্যাকমেইল এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য তারা দখলে নিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারি এবং এতে ব্রাভারম্যানের কথিত ভূমিকা নিয়েও শিগগিরই আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। আজ আপনারা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারবেন, আসলে কী ঘটেছিল। নথিপত্র, অডিও রেকর্ডিং ও ভিডিওসহ ব্রাভারম্যানের দ্বিমুখী জীবনের প্রতিটি সূত্র এবং শাসনব্যবস্থাকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত সব গোপন তথ্য ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসবে।
চলতি মাসের শুরুতে তারা দাবি করে, তারা দখলদার ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন হ্যাক করেছে। এই সাইবার অভিযানের মাধ্যমে বেনেটের ব্যক্তিগত কন্টাক্ট তালিকা ও তথ্য তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে।
পরে অবশ্য নাফতালি বেনেট নিজেই স্বীকার করেন, তার মোবাইল ফোন সরাসরি হ্যাক করা হয়নি; হ্যাকাররা কেবল তার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পেরেছিল। তবুও এই ঘটনার পর তার কন্টাক্ট তালিকা প্রকাশ্যে আসে এবং ছবি ও চ্যাট কথোপকথন অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কিছু ভুয়া উপাদানও ছিল বলে বেনেট উল্লেখ করেন। এর মধ্যে দখলদার ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠাতা নেতা ডেভিড বেন গুরিয়নের সঙ্গে তার একটি সাজানো ছবির কথাও উঠে আসে।
সূত্র: আই টুয়েন্টিফোর











