আফগানিস্তানের নতুন দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধের যেসব শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে

নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার ঘটনায় তওবা করলে ছয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে। তওবা না করলে মুরতাদ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রাখা হয়েছে।
আফগানিস্তানের নতুন দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধের যেসব শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে
আফগানিস্তানের নতুন দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধের যেসব শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে

ইসলামি ইমারত আফগানিস্তান সম্প্রতি নতুন দণ্ডবিধি প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দণ্ডবিধির সব শাস্তি ইসলামি শরিয়াহ ও হানাফি ফিকহের আলোকে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা দেশের সর্বত্র কার্যকর হবে।

নতুন দণ্ডবিধি অনুযায়ী, পশুদের পরস্পরের সঙ্গে লড়াই করাতে বাধ্য করলে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। অস্ত্র পাচারের অপরাধে এক বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সমকামিতার ক্ষেত্রে প্রথমবার দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি হিসেবে ৪০ বেত্রাঘাত নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘুষ দেওয়া ও ঘুষ গ্রহণের অপরাধে দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে। ঘুষের লেনদেনে মধ্যস্থতা করলে ছয় মাস কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মাদক বিক্রির অপরাধে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। মাদক পাচারের ক্ষেত্রে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হবে। অপহরণের অপরাধে সর্বোচ্চ দশ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

দণ্ডবিধিতে ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। রোজা ভাঙার অপরাধে ২০ বেত্রাঘাত ও দুই মাস কারাদণ্ড দেওয়া হবে। কোনো মুসলমানকে অন্যায়ভাবে তাকফির করা বা গালাগাল করার শাস্তি হিসেবে ৪০ বেত্রাঘাত নির্ধারণ করা হয়েছে। নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার ঘটনায় তওবা করলে ছয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে। তওবা না করলে মুরতাদ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রাখা হয়েছে।

সামাজিক শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অপরাধের মধ্যে মারধরের জন্য ১৫ দিন কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। মাহরাম নন এমন ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

এ ছাড়া জুয়া খেলার অপরাধে চার মাস কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। নাচ, নৃত্যকলা বা সেগুলো দেখার ক্ষেত্রে দুই মাস কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অঙ্গ পাচারের অপরাধে এক বছর কারাদণ্ড এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অপরাধে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ইসলামি ইমারত আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন দণ্ডবিধির সব বিধান সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য হবে।