মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য অর্ডার করতে ক্লিক করুন

সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তি, কার লাভ কোথায়? 

ছবি : এ আই
ছবি : এ আই

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের আভাস দিচ্ছে সম্ভাব্য সৌদি আরব–পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি। আলোচনার অগ্রগতির এই পর্যায়ে তুরস্কও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিন দেশের কৌশলগত স্বার্থ ও লক্ষ্য ভিন্ন হলেও, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

সৌদি আরবের লক্ষ্য

ওয়াশিংটনের ওপর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নির্ভরতা কমাতে রিয়াদ বেশ কিছুদিন ধরে বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে যাতে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সে জন্য সৌদি আরব একটি বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ছাতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা ও তুরস্কের বিকাশমান প্রতিরক্ষা শিল্পকে তারা এই কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। বিকল্প অংশীদার রেখে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোই রিয়াদের মূল উদ্দেশ্য।

পাকিস্তানের লক্ষ্য

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান সামরিক খাতকে নতুন রাজস্ব উৎসে পরিণত করতে আগ্রহী। চুক্তিটিকে তারা অস্ত্র বিক্রি, যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সামরিক প্রশিক্ষণের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প সক্রিয় থাকবে এবং বৈদেশিক আয়ের নতুন পথ খুলবে বলে মনে করছে ইসলামাবাদ।

তুরস্কের লক্ষ্য

তুরস্ক ন্যাটোর সদস্যপদ বজায় রাখলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমান্তরাল নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। আঙ্কারার লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে নিজের কূটনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করা। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের বাজার বাড়াবে এবং একক জোটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার চাপ কমাবে।

সম্ভাব্য এই ত্রিপাক্ষিক জোট আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রাজনীতিতে এটি নতুন বাস্তবতার জন্ম দিতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: গালফ পোস্ট