মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য অর্ডার করতে ক্লিক করুন

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক জোট : কী ঘটতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে 

ছবি : এ আই
ছবি : এ আই

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আবারও পরিবর্তনের আভাস মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প শক্তি–সমীকরণ গড়ার চেষ্টার মধ্যেই আলোচনায় এসেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্ভাব্য জোট। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। প্রশ্ন হলো, এই জোট কি শুধু বার্তা, নাকি বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা?

জোটের সম্প্রসারণ

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে তুরস্ক উন্নত পর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে বিস্তৃত করে একটি ত্রিপক্ষীয় আঞ্চলিক জোটে রূপ দেওয়া, এমন একটি জোট মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত সমীকরণে মৌলিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন

এই জোটের উদ্দেশ্য হলো বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা। যার ফলে রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়েও নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ত্রিপক্ষীয় জোট আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে এবং দখলদার শক্তির সামরিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য সীমিত করতে সহায়ক হতে পারে।

গুণগত প্রতিরোধক্ষমতা

এই জোটের ভিত্তি গড়ে উঠেছে পারস্পরিক পরিপূরক শক্তির ওপর। পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা, তুরস্কের আধুনিক সামরিক অগ্রগতি ও উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প, আর সৌদি আরবের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব, এই তিন উপাদানের সমন্বয়ে জোটটি অর্জন করছে এক ধরনের গুণগত প্রতিরোধক্ষমতা, যা আগে দেখা যায়নি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক কৌশল নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দরকষাকষির সক্ষমতা ও কূটনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

মিসরের যোগদানের সম্ভাবনা

এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম মহলে মিসরের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মিসরকে এই জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীও সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন একটি সমন্বিত কাঠামো এখন সময়ের দাবি।

দখলদারত্বের মুখোমুখি

এই সমঝোতার ফলে সবচেয়ে বড় চাপের মুখে পড়তে পারে ইসরায়েল। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এই জোট ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করবে এবং একতরফাভাবে শক্তি প্রয়োগের সুযোগ সীমিত করবে। একই সঙ্গে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব আসতে পারে সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে।

মার্কিন অবস্থান

এই জোটকে যুক্তরাষ্ট্র দেখছে উদ্বেগের চোখে। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ও জোট কাঠামোর বাইরে যাওয়ার একটি ইঙ্গিত। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, এমন উদ্যোগ তাদের সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক মিত্ররা যদি আরও স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সূত্র : রাসদ নিউজ