মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য অর্ডার করতে ক্লিক করুন

গাজায় তুর্কি বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে যা বলছে হামাস 

গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারসহ পাঁচ বছরের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হামাসের
গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারসহ পাঁচ বছরের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হামাসের। ছবি : এএফপি

গাজা উপত্যকায় সম্ভাব্য কোনো নিরাপত্তা বাহিনীতে তুর্কি বা মুসলিম রাষ্ট্রের বাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়ে হামাস তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। হামাসের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষার লক্ষ্যে যে কোনো আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে হামাস স্বাগত জানায়। তবে প্রতিরোধকে দমন করা বা প্রতিরোধ বাহিনীর অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে যে কোনো বাহিনীর উপস্থিতি তারা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

আল জাজিরা মুবাশিরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাস নেতা তাইসির সুলাইমান বলেন, পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, জেরুজালেম এবং ১৯৬৭ সালে দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনগণ দীর্ঘদিন ধরে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার মুখে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে চলমান পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় সংঘটিত গণহত্যা ফিলিস্তিনিদের জন্য কার্যকর সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, গাজায় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে যে কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনা একটি স্পষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে হতে হবে। হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর মতে, এসব বাহিনীর কাজ হবে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণকে ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা এবং দখলদার বাহিনীর যে কোনো অনুপ্রবেশ প্রতিহত করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক যে কোনো চুক্তিকে হামাস স্বাগত জানায় এবং তা সমর্থন করে।

তুর্কি বাহিনীর উপস্থিতি

তাইসির সুলাইমান বলেন, প্রতিরোধের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো বা প্রতিরোধ বাহিনীকে নিরস্ত্র করার উদ্দেশ্যে যেকোনো সামরিক বা নিরাপত্তা উপস্থিতিকে হামাস স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের যে কোনো পদক্ষেপ পারস্পরিক সমঝোতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আর এ কারণে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা দেওয়ার যে অঙ্গীকার ছিল, তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তা ভঙ্গ করা হচ্ছে।

তুর্কি বা মুসলিম রাষ্ট্রের বাহিনী অংশগ্রহণে ইসরায়েলের আপত্তির প্রসঙ্গে হামাসের এই নেতা বলেন, দখলদার শক্তি বরাবরের মতোই যে কোনো উদ্যোগকে নস্যাৎ করে দিতে চায়। ইসরায়েল কেবল সেসব বাহিনীকেই চায়, যারা তাদের স্বার্থে কাজ করবে এবং তাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না।

সুলাইমান আরও বলেন, দখলদার বাহিনী ভালো করেই জানে তুর্কি বা মুসলিম রাষ্ট্রের বাহিনী কখনোই ইসরায়েলি আগ্রাসনের পাশে দাঁড়াবে না। তারা হামাস, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন বা গাজা উপত্যকার প্রতিরোধ বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযানে অংশ নেবে না। তাঁর ধারণা, এই প্রেক্ষাপটে তুর্কি বাহিনীর উপস্থিতির বিরোধিতায় ইসরায়েলের অবস্থান সামনের দিনগুলোতে আরও কঠোর হয়ে উঠতে পারে।

লেবানন-ধাঁচের দৃশ্যপট

হামাসের এই শীর্ষ নেতা সতর্ক করে বলেছেন, দখলদার ইসরায়েল যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইছে, তা দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকা ইউনিফিল বাহিনীর মতো একটি লোক দেখানো বাহিনী গঠন মাত্র। এর ফলে জাতিসংঘ বা নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো হস্তক্ষেপ কিংবা বাস্তব কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ইসরায়েল অবাধে চলাফেরা ও সামরিক তৎপরতা চালাতে পারবে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি ও মার্কিন অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, ৫০টিরও বেশি দেশ এ ধরনের বাহিনীতে অংশ নিতে আগ্রহী। অন্যদিকে, এত বিপুল সংখ্যক দেশ ইসরায়েলের সেই দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে কাজ করতে রাজি হবে না, যার লক্ষ্য প্রতিরোধ বাহিনীকে দমন করা কিংবা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের তল্লাশি ও অনুসরণের মতো পদক্ষেপ চাপিয়ে দেওয়া।

সবশেষে হামাসের এই নেতা জোর দিয়ে বলেন, দখলদার শক্তির নির্দেশ মান্য করে এবং তাদের নীতি বাস্তবায়নে বাধ্য কোনো সরকার বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আরোপিত যে কোনো নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক ব্যবস্থা আরব ও ফিলিস্তিনিরা প্রত্যাখ্যান করে। তিনি আরও বলেন, হামাস ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ বাহিনী এমন কোনো ব্যবস্থাই মেনে নেবে না, যা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধের অধিকার খর্ব করে অথবা তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদায় আঘাত হানে।

সূত্র: আল জাজিরা মুবারাশির