মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য অর্ডার করতে ক্লিক করুন

মারা গেলেন ওসামা বিন লাদেনের প্রথম সাক্ষাৎকার নেয়া পশ্চিমা সাংবাদিক, কেমন ছিলো প্রথম সাক্ষাতের সেই মুহূর্ত 

উসামা

সাংবাদিক পিটার আর্নেটের মৃত্যুর ঘোষণা আসার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেই স্মৃতি আমাদের নিয়ে যায় ১৯৯৭ সালের মার্চ মাসের এক তীব্র শীতের রাতে। উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষায় ভরা সেই সময়ে, পূর্ব আফগানিস্তানের পাহাড়ি এলাকার উচ্চভূমিতে অবস্থিত একটি সাধারণ কাঁচা কুটিরে ঘটে এমন এক সাক্ষাৎ, যা পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়।

চারদিক থেকে ঘিরে আছেন ভারী অস্ত্রসজ্জিত আল কায়েদা যোদ্ধারা। এমন পরিবেশে ওসামা বিন লাদেনের মুখোমুখি বসেছিলেন পিটার আর্নেট। এটি ছিল কোনো পশ্চিমা গণমাধ্যমকে দেওয়া বিন লাদেনের প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকার। পরে যা কেবল একটি সাক্ষাৎকারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা ভবিষ্যতের ভয়াবহ পরিকল্পনার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হয়।

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে আর্নেট বিন লাদেনকে প্রশ্ন করেন, তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী। জবাবে বিন লাদেন সংক্ষিপ্ত ও হুমকির ভাষায় বলেন, তা সংবাদমাধ্যমেই দেখা ও শোনা যাবে।

এর এক বছরের মধ্যেই সেই বক্তব্যের বাস্তবতা সামনে আসে। ১৯৯৮ সালে আল কায়েদা আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি দূতাবাসে প্রায় একযোগে হামলা চালায়। এসব হামলায় প্রাণ হারায় দুই শতাধিক মানুষ।

এরপর ঘটনাপ্রবাহ আরও দ্রুত এগোতে থাকে। ২০০০ সালে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল–এ বোমা হামলায় নিহত হয় ১৭ জন মার্কিন নাবিক। এর পরই আসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা—২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের টুইন টাওয়ারে হামলা। ওই হামলায় প্রাণ হারায় প্রায় তিন হাজার মানুষ। একই সঙ্গে শুরু হয় ‘ওয়ার অন টেরর’ নামে আমেরিকার সন্ত্রাসী অভিযান।

কেন আর্নেটকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল?

বিন লাদেনের পক্ষ থেকে আর্নেট এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল পরিকল্পিত, কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। প্রথম সাক্ষাৎকারের জন্য তাদের নির্বাচন করা হয় আর্নেটের পেশাগত সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে।

উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় তার নিরপেক্ষ ও সাহসী প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে এই সুনাম গড়ে ওঠে। ১৯৯১ সালে, যখন অন্য পশ্চিমা সাংবাদিকেরা বাগদাদ ত্যাগ করেন, তখন আমেরিকার টানা বোমাবর্ষণের মধ্যেই আর্নেট থেকে যান ইরাকের রাজধানীতে। সাদ্দাম হুসেইনের শাসনামলে ওই যুদ্ধের সরাসরি কভারেজ তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই পেশাগত ইতিহাসই তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখে পরিণত করে, এমনকি নিজ দেশের বিরোধীদের কাছেও।