ইরান যুদ্ধ ৬ষ্ঠ দিন: তেহরানে জোরালো আঘাত ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি বিপর্যয়

Iran-Israel-US-4

তেহরানে অভিযান: ইরানের রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC), বাসিজ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কৌশলগত সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মূলত ইরানের কেন্দ্রীয় কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং আক্রমণাত্মক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই এই লক্ষ্যভেদী হামলা চালানো হয়েছে।

উৎপাদন ও সক্ষমতা হ্রাস: ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা এবং কাঁচামালের গুদামগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে, এই আক্রমণের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ক্ষমতা প্রায় ৮৬% হ্রাস পেয়েছে।

সীমান্তবর্তী অস্থিরতা: কুর্দিস্তান ও আজারবাইজান প্রদেশে আইআরজিসি ও বাসিজ সদর দফতরগুলোতে হামলা অব্যাহত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড সহজ করতেই এই এলাকাগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরাকি কুর্দিস্তান থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের স্থল অভিযানের গুঞ্জন শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।

নৌ-যুদ্ধ ও নেভিগেশন: হরমুজ প্রণালীকে পুনরায় সচল করতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ইরানের ২০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এর বিপরীতে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই রুটে জাহাজ চলাচল ৯০% কমে গেছে।

জ্বালানি সংকট ও বিশ্ববাজার: সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তীব্রতর করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার তাদের গ্যাস তরলীকরণ প্রক্রিয়া (Liquefaction) পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে, যা স্বাভাবিক হতে অন্তত এক মাস সময় লাগবে। এছাড়া অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোও তেল উৎপাদন বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই অস্থিরতার জেরে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৭০% লাফিয়ে বেড়েছে।

আঞ্চলিক ফ্রন্ট (ইরাক ও লেবানন): ইরাকি শিয়া গোষ্ঠীগুলো কুর্দিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি স্থল বাহিনী ‘খিয়াম’ অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় ত্রিপোলিতে হামাস নেতা ওয়াসিম আতাউল্লাহ শহিদ হয়েছেন। এর জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সামরিক কারখানা ও রাডার স্টেশন লক্ষ্য করে শক্তিশালী রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

লেবানন সেনাবাহিনীর অবস্থান: পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। দক্ষিণমুখী সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে বেশ কয়েকজন হিজবুল্লাহ সদস্যকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।