মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য অর্ডার করতে ক্লিক করুন

আলোচনায় শহিদ আবু উবায়দার মাস্টার্স থিসিস, কী আছে এতে 

আলোচনায় শহিদ আবু উবায়দার মাস্টার্স থিসিস, কী আছে এতে 
আলোচনায় শহিদ আবু উবায়দার মাস্টার্স থিসিস, কী আছে এতে 

​কাসসাম ব্রিগেডের শহিদ মুখপাত্র হুজাইফা আল-কাহলুত, যিনি বিশ্বজুড়ে আবু উবায়দা নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন, কয়েক বছর আগে সম্পন্ন করা তাঁর একটি মাস্টার্স থিসিস নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি কাসসামের বিবৃতিতে প্রকৃত নাম প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক ও শিক্ষাগত জীবন নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

​আবু উবায়দা গাজা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ-দ্বীন অনুষদে শরিআহ নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১৩ সালে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিল – ‘ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে পবিত্র ভূমি (The Holy Land between Judaism, Christianity, and Islam)’।

​থিসিসের এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। নেটিজেনদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে এই গবেষণার গভীরতা ও তাৎপর্য অপরিসীম।

​গবেষণাপত্রটির মূল কিছু বৈশিষ্ট্য 

বিশাল কলেবর: থিসিসটি প্রায় ৬৫০ পৃষ্ঠার, যা বর্তমান সময়ের মাস্টার্স পর্যায়ের গবেষণায় বিরল।

​গভীর বিশ্লেষণ: এটি কেবল তিনটি ধর্মের তুলনামূলক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পবিত্র ভূমি দখলের বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল এবং এই ভূমির ওপর ইহুদিদের দাবির অসারতাও এতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সচেতনতার প্রতিফলন: বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্র জীবনেই আবু উবায়দার মধ্যে যে গভীর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সচেতনতা ছিল, এই থিসিস তার প্রমাণ। তার কাছে পবিত্র ভূমি বা স্বদেশ কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং তা ছিল তার জ্ঞানতাত্ত্বিক ও গবেষণামূলক কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

​অনেকেই মন্তব্য করেছেন, যখন অনেকে অপ্রাসঙ্গিক ধর্মীয় তর্কে লিপ্ত, তখন আবু উবায়দা জ্ঞান এবং কর্মের (Thought and Action) মধ্যে এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তিনি তাঁর গবেষণায় ইবনে তাইমিয়াহ, বিন বাজ এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের মতো স্কলারদের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গোঁড়া মতবাদ ও কবর পূজার মতো বিষয়েরও সমালোচনা করেছেন।

​ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া থিসিসের উৎসর্গপত্রে তাঁর দেশপ্রেম এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার নিদর্শন পাওয়া যায়। একজন লিখেছেন, ‘আবু উবায়দা এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি আকিদা শিখেছেন এবং তার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন; তিনি সেই সব লোকের মতো নন, যারা আকিদা শেখে কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থে তা বিসর্জন দেয়।’

​নেটিজেনদের মতে আবু উবায়দার এই থিসিস কেবল একটি একাডেমিক ডিগ্রি ছিল না, বরং এটি ছিল তার চিন্তা ও আদর্শের প্রতিফলন, যা তিনি পরবর্তী জীবনে বাস্তবে প্রয়োগ করে দেখিয়েছেন। তার জ্ঞানতাত্ত্বিক এই যাত্রা ছিল তাঁর চূড়ান্ত আত্মত্যাগেরই এক স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা।