কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কাতারের রাজধানী দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কাতার, মিসর এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রচেষ্টায় এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে। আগামী রবিবার, ১৯ জানুয়ারি থেকে চুক্তি কার্যকর হবে।
চুক্তির বিষয়সমূহ
প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ উল্লেখ করেন, চুক্তি অনুযায়ী হামাস ৩৩ জন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিবে। এর মধ্যে ২৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পর আটককৃত প্রায় ১ হাজার বন্দি অন্তর্ভুক্ত।
ইসরায়েলি সেনারা গাজা সীমান্তের ৭০০ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ধাপে ধাপে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে। প্রথম ধাপে নেটজারিম করিডোরে তাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনা হবে এবং পরবর্তীতে পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে, যা কার্যকর হবে প্রথম ধাপ শুরু হওয়ার সাত দিনের মধ্যে। এছাড়া আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগও থাকবে।
চুক্তি বাস্তবায়নে কাতার ও মিসরের তত্ত্বাবধানে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ গাজা থেকে উত্তরে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি মানবিক ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য একটি বিশেষ প্রটোকল কার্যকর করা হবে।
হামাস যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচির নিশ্চয়তা দাবি করেছে।
চুক্তি চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া
চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে কাতারের প্রধানমন্ত্রী পৃথকভাবে হামাস ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দোহায় বৈঠক করেন। হামাস ইতোমধ্যে চুক্তিতে সম্মতি জানিয়েছে এবং এটিকে জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্বশীল আচরণ বলে উল্লেখ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বড় একটি অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী বন্দিদের মুক্তি শিগগিরই শুরু হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এই চুক্তিকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পূর্ব প্রস্তাবিত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার এই চুক্তি নিয়ে ভোটাভুটি করবে।
গাজায় সংঘাত বন্ধে এই চুক্তি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে চুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর।
সূত্র: আল-জাজিরা











