কাসসাম ব্রিগেডের ‘মুখোশধারী’ মুখপাত্র হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশের পর থেকে নিজের শাহাদাত অবধি আবু উবায়দা ছিলেন ইসরায়েলের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তার কণ্ঠস্বর এবং তেজস্বী উপস্থিতি ইজরায়েলি টেলিভিশনের সমীকরণ বদলে দিত এবং তাদের নেতাদের মধ্যে তৈরি করত চরম আতঙ্ক। একারণেই তাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে দখলদার বাহিনী বারবার হামলা চালিয়েছে।
অভিযান ১: ২০০৮ সাল
কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র হিসেবে আবু উবায়দার প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির পরেই ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করে, এক বিমান হামলায় তাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তার সরব উপস্থিতি সেই দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
অভিযান ২: ২০১২ সাল
‘হিজারাত আস-সিজ্জিল’ যুদ্ধের সময় আরও একবার তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। ইসরায়েল ঘোষণা করেছিল, আবু উবায়দা তাদের নিশানায় রয়েছেন। তবে আবু উবায়দা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সেই সময় নিজের অবস্থান জানান দিয়ে তাদের দাবি নস্যাৎ করে দেন।
অভিযান ৩: মে ২০২৫
২০২৫ সালের মে মাসে ইজরায়েল ফের দাবি করে, মোহাম্মদ সিনওয়ারের সঙ্গে তাকেও হত্যা করা হয়েছে। হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলো ফলাও করে এই খবর প্রচার করলেও হামাস বা কাসসাম ব্রিগেডের পক্ষ থেকে তখন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
অভিযান ৪: আগস্ট ২০২৫
২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট হিব্রু গণমাধ্যমগুলো জানায়, গাজার আর-রিমাল এলাকায় একটি বিমান হামলায় তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাম উল্লেখ না করে তখন দাবি করেছিল তারা হামাসের এক কেন্দ্রীয় নেতার সফলভাবে অবসান ঘটিয়েছে।
কেন ইসরায়েল বারবার তাঁর হত্যার খবর ছড়াত?
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরায়েলি মিডিয়া বারবার আবু উবায়দাকে হত্যার যে প্রচারণা চালিয়েছে, তা ছিল মূলত তাদের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের’ (Psychological Warfare) একটি অংশ। তাকে হত্যার গুজব ছড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করত দখলদার বাহিনী।
আবু উবায়দার শাহাদাত বরণ
অবশেষে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে আবু উবায়দার শাহাদাতের ঘোষণা দেয়।
তার স্মৃতি স্মরণে তার একটি বিখ্যাত উক্তি এখানে উল্লেখ করা হয়েছে:
‘একজন নেতা বিদায় নিলে তার স্থলাভিষিক্ত হয় দশজন নেতা, একজন সৈন্য শহীদ হলে জন্ম নেয় হাজারো প্রতিরোধ যোদ্ধা। এই মাটি যেমন জলপাই গাছ জন্ম দেয়, তেমনি জন্ম দেয় অকুতোভয় বীর সংগ্রামীদের।’
সূত্র: Hadathplus











