যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা অভিবাসী গুয়ান শিনজিয়াং অঞ্চলের উইঘুর বন্দিশিবিরে দেখা বাস্তবতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রকাশ করা ভিডিওগুলোতে শিবিরগুলোর ভেতরের কঠোর ও মানবেতর পরিস্থিতির চিত্র ধরা পড়েছে। সেখানে মুসলিম সংখ্যালঘুদের আটকে রেখে তাদের দৈনন্দিন জীবন কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এসব ভিডিও প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং শিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ভিডিওগুলো প্রকাশের পর গুয়ান নিজেই পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে করে তাঁকে যদি চীনে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে গ্রেপ্তার, নিপীড়ন কিংবা কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য প্রকাশে তাঁর ভূমিকার কারণেই এখন তাঁর জীবন ও স্বাধীনতা সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
গুয়ান যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাঁকে আটক করে। তাঁর মামলাটি এখনো আদালতে বিচারাধীন। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ জানিয়েছে এবং তাঁকে সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনগুলো বলছে, গুয়ানকে চীনে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর জীবন ও স্বাধীনতা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই তাঁকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার সুযোগ দেওয়া জরুরি।
গুয়ানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শিনজিয়াং অঞ্চলের উইঘুরদের বৃহত্তর সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যে বলা হয়েছে, সেখানে রি-অ্যাডুকেশন ক্যাম্পের নামে এক মিলিয়নের বেশি মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এসব শিবিরে নির্যাতন, কঠোর নজরদারি ও জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয় মুছে দেওয়ার চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মানবাধিকার সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা জোরালো হয়েছে।











